কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ–মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু হলেও এখনো তা স্বাভাবিক গতি ফিরে পায়নি। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সীমিত আকারে বাণিজ্য শুরু হলেও বর্তমানে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আগের তুলনায় প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে।
বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান অস্থিরতা ও নিরাপত্তাজনিত জটিলতার কারণে বাণিজ্য কার্যক্রম এখনো পুরোপুরি সচল হয়নি। ফলে বন্দরের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আয়ও প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়ছে না।
বর্তমানে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন থেকে সরাসরি পণ্য আমদানি বন্ধ থাকলেও রাখাইন অঞ্চল থেকে অল্প পরিমাণে কাঠ আমদানি করা হচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে কোল্ড ড্রিংকস, বিস্কুটসহ কিছু ভোগ্যপণ্য রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, আগে বড় ট্রলার ও নিয়মিত চালানে বাণিজ্য চললেও এখন ছোট নৌযানের মাধ্যমে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চলছে।
নাফ নদী এলাকায় আরাকান আর্মির প্রভাব ও অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে অনেক আমদানিকারক এখনো পূর্ণমাত্রায় ব্যবসায় ফিরে আসেননি।
টেকনাফ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এহেতাশামুল হক বাহাদুর জানান, দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর বাণিজ্য চালু হলেও এখনো তা স্বাভাবিক হয়নি। তার মতে, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার কারণে অনেক ব্যবসায়ী কার্যক্রম সীমিত রেখেছেন।
তিনি আরও জানান, ব্যবসায়ীদের বিপুল অর্থ এখনো মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে আটকে আছে, যা বাণিজ্য পুনরুদ্ধারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
টেকনাফ স্থলবন্দরের ব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, গত দুই মাস ধরে সীমিত আকারে আমদানি-রপ্তানি শুরু হলেও আগের তুলনায় মাত্র ১০ শতাংশ কার্যক্রম চলছে। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে বাণিজ্য আবারও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, বর্তমানে ছোট ট্রলারের মাধ্যমে কাঠসহ কিছু পণ্য আনা-নেওয়া হচ্ছে, যেখানে আগে বড় ট্রলারে বড় পরিসরে বাণিজ্য হতো।
টেকনাফ কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রপ্তানি আয় তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও আমদানি খুবই সীমিত। ২০২৬ সালের মে মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার, আর জুনের প্রথমার্ধে তা প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার ডলার। অন্যদিকে একই সময়ে আমদানি থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে তুলনামূলক কম।
কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ মনে করছে, সীমান্ত পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে টেকনাফ স্থলবন্দরের বাণিজ্য আবারও গতি পেতে পারে। তবে আপাতত অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা ঝুঁকিই প্রধান বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।