সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
সাগরে ইলিশ ধরতে গিয়ে মোড়েলগঞ্জের জেলের মৃত্যু কুড়িগ্রামে অরণ্যের উৎসব ধামরাইয়ে ডাকাতের ঘটনায় গ্রেফতার ৬: অস্ত্রসহ সরঞ্জাম উদ্ধার মোরেলগঞ্জে ৪ কেজি গাঁজাসহ আটক-২ ধামরাইয়ে রাইস মিলের যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগে মারধরের সাত দিন পর যুবকের মৃত্যু শেরপুরে নিখোঁজের আটদিন পর ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার, আটক ১৯ জন ধামরাইয়ে পরের জায়গায় ভাঙ্গা ঘরে বিধবা বৃদ্ধা আলো রানীর বসবাস, দু:শ্চিন্তায় দিন পাড় রাতের বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়াচ্ছে ব্যাটারি রিকশা-ই-বাইক: জ্বালানিমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি মহাসচিবের পদ ছাড়লেন মির্জা ফখরুল ব্যস্ততার অজুহাতে আগে ফরজ নামাজ? ইসলামে কী বিধান চরহরিরামপুরে ব্রিজ নির্মাণে সুফল নেই, দ্রুত রাস্তা চান স্থানীয়রা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নতুন সমীকরণ, প্রার্থী ফখরুল ও অলি প্রতারণা মামলায় জামিন পেলেন তানজিন তিশা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য: আইনমন্ত্রী ভালো চিত্রনাট্যের অপেক্ষায় আছি : জাহিদ হাসান তীব্র গ্যাস সংকটে রাজধানী, ফিলিং স্টেশনে ভোগান্তি চরম ধামরাইয়ে বিএনপি’র আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চান মোদি : দীনেশ ত্রিবেদী জামালপুরে ধর্ষণ মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণে ভারতের প্রতি তাগিদ, তারেকের ভারত সফরে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি
Notice :

একজন সমাজ সেবক ও উদ্যোক্তা তৈরির সুনিপুণ কারিগরের গল্প

মিজানুর রহমান
ছবি: সংগৃহীত

গ্রামবাংলার সমাজব্যবস্থায় এমন কিছু মানুষ আছেন, যাদের নিঃস্বার্থ কর্মপ্রচেষ্টা ও মানবিক চিন্তাধারা সমাজের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। তারা নিজ স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেন। ধামরাই উপজেলার সূতিপাড়া গ্রামের কৃতি সন্তান জনাব সামছুল হক তেমনি একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক, যিনি শৈশবকাল থেকেই মানবকল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে চলেছেন। তার জীবনদর্শন, মানবিকতা এবং সমাজ উন্নয়নে নিরলস প্রচেষ্টা আজ তাকে একজন সম্মানিত ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ছোটবেলা থেকেই তিনি মানুষের দুঃখ-কষ্ট দেখে গভীরভাবে ব্যথিত হতেন। সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনসংগ্রাম তাকে নাড়া দিত। অন্যের কষ্ট লাঘব করার এক অদম্য ইচ্ছা তার হৃদয়ে জন্ম নেয় খুব অল্প বয়সেই। এই মানবিক অনুভূতি থেকেই তার সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সূচনা ঘটে। কৈশোরে পদার্পণের পর তার এই চিন্তাধারা আরও সুদৃঢ় হয় এবং তরুণ বয়সে এসে তিনি সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেন।

শৈশব থেকেই তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষের কল্যাণের মধ্যেই রয়েছে প্রকৃত সুখ, আত্মতৃপ্তি ও জীবনের সার্থকতা। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি সমবয়সী, বন্ধু ও সহপাঠীদের সংগঠিত করে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে শুরু করেন। এলাকার দরিদ্র মানুষ জনকে সহায়তা, সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ এবং তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে তিনি সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করতে থাকেন। তার নেতৃত্বগুণ, আন্তরিকতা এবং মানবিক আচরণ খুব দ্রুতই মানুষকে আকৃষ্ট করে।

মানবসেবার এই মহান আদর্শ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনি নিজ গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন “শ্রীরামপুর সূতিপাড়া উদীয়মান যুবক সমিতি” নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সংগঠনটির মূল উদ্দেশ্য ছিল সমাজের উন্নয়নমূলক ও মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে একটি সুন্দর ও সচেতন সমাজ গড়ে তোলা। তরুণদের স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে সমাজকল্যাণমূলক কাজে সম্পৃক্ত করা ছিল এই সংগঠনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তার দূরদর্শী চিন্তা ছিল—যুবসমাজ যদি সঠিক পথে পরিচালিত হয়, তাহলে সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন নিশ্চিত করা সম্ভব।

এই সংগঠনের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। দরিদ্র মানুষের সহায়তা, অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষামূলক উদ্যোগ গ্রহণ এবং সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রচারণা ছিল সংগঠনটির উল্লেখযোগ্য কর্মকাণ্ড। ধীরে ধীরে সংগঠনটি স্থানীয় মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করে এবং এলাকার সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে শুরু করে।

শিক্ষাসমাপনান্তে তিনি অন্য কোনো পেশাকে বেছে নেননি। বরং সমাজসেবাকেই নিজের জীবনের লক্ষ্য ও পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। এটি ছিল তার আত্মত্যাগ, দায়বদ্ধতা ও মানবপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সমাজের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণকে জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করে তিনি আরও বৃহৎ পরিসরে কাজ করার উদ্যোগ নেন।

পরবর্তীতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন “সোসাইটি ফর ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভস (এসডিআই)” নামে একটি বেসরকারি সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তার দক্ষ নেতৃত্বে সংস্থাটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিরলসভাবে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে যাচ্ছে। এসডিআই বর্তমানে সমাজের অবহেলিত, দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

জনাব সামছুল হকের নেতৃত্বে এসডিআই দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও কৃষকদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কৃষকদের আধুনিক ও নিরাপদ কৃষি ব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতন করা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থার প্রসারে তিনি বিশেষ অবদান রাখছেন। তার প্রচেষ্টায় অনেক কৃষক আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা লাভ করে উপকৃত হয়েছেন।

নারীর ক্ষমতায়নেও তার অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি সমাজ তখনই উন্নত হতে পারে যখন নারী ও পুরুষ সমানভাবে সমাজের উন্নয়নে অংশগ্রহণ করবে। এই চিন্তাধারা থেকে তিনি নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি, নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা এবং লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে নারীদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথ সুগম করেছেন তিনি।

শিশু-কিশোর ও তরুণ সমাজের উন্নয়নেও সামছুল হক বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি মনে করেন, আগামী দিনের নেতৃত্ব গড়ে উঠবে আজকের তরুণদের মধ্য থেকেই। তাই তাদের সঠিক শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধে উদ্বুদ্ধ করতে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। শিক্ষার প্রসার ও মানোন্নয়নে তার গভীর আগ্রহ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

প্রবীণদের কল্যাণ এবং সমাজের অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোও তার কাজের অন্যতম প্রধান দিক। সমাজের বয়োজ্যেষ্ঠ ও অসহায় মানুষদের প্রতি তার সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি বিশ্বাস করেন, মানবিক সমাজ গঠনের জন্য প্রত্যেক মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সহমর্মিতা থাকা প্রয়োজন।

নিরাপদ খাদ্য ও নিরাপদ কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও জনাব সামছুল হকের উদ্যোগ প্রসংশনীয়। বর্তমান সময়ে ভেজাল ও অনিরাপদ খাদ্য মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজ পৃথিবী গঠনের লক্ষ্যে তিনি পরিবেশবান্ধব নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে তিনি মাদক, বাল্যবিবাহ ও বিভিন্ন সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তার এই উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক হয়েছে।

জনাব সামছুল হকের ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো তার নম্রতা, ভদ্রতা ও মানবিক আচরণ। তিনি সবসময় মানুষের সঙ্গে আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করেন। তার শান্ত স্বভাব, সহানুভূতিশীল মনোভাব এবং সৎ চরিত্র তাকে সমাজে একজন সজ্জন ও শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মানুষ তাকে শুধু একজন সমাজসেবক হিসেবেই নয়, বরং একজন মানবিক ও আদর্শবান মানুষ হিসেবেও মূল্যায়ন করে। নিজ কর্মগুণে তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করাই জীবনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা। মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে অবদান রাখার মধ্যেই তিনি প্রকৃত আনন্দ খুঁজে পান। মানবসেবার মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকার যে অমর স্বপ্ন তিনি ধারণ করেন, সেই স্বপ্নই তাকে প্রতিনিয়ত এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা জোগায়।

সমাজের উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে জানাব সামছুল হকের এই নিরলস প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে আগামী প্রজন্মের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তার জীবন ও কর্ম আমাদের শেখায় যে, একজন মানুষ যদি আন্তরিক ইচ্ছাশক্তি, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করে, তাহলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। স্বদিচছা, দায়িত্ববোধ, দক্ষতা ও নিরলস প্রচেষ্টা দিয়ে তিনি নিজেকে একজন অনন্য সমাজ সেবকে এবং উদ্যোক্তা তৈরির নিপুণ কারিগর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সমর্থ হয়েছেন। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা নিঃস্বার্থ মানবসেবার মাধ্যমে তিনি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা সমাজের প্রতিটি মানুষকে মানবকল্যাণে এগিয়ে আসার অনুপ্রেরণা জোগাবে। আগামী ৮ ই আগস্ট তাঁর ৬৯ তম জন্ম দিনকে ঘিরে এই গুণী  মানুষটি সকলের আশীর্বাদ, প্রীতি ও শুভেচ্ছা প্রাপ্তির দাবিদার।।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিষ্ট


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *