বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদের তলদেশ থেকে বিশালাকৃতির একটি নোঙর উদ্ধার করা হয়েছে। নোঙরটি কীভাবে নদীতে পৌঁছেছে তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতুহল দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় জেলে জসিম উদ্দিন জানান, সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে পাঙাশ মাছ ধরার জন্য নদে জাল ফেলছিলেন। কিছুক্ষণ পর জালটি কোনো বস্তুর সঙ্গে আটকে যায়। প্রথমে তিনি মনে করেন, এটি কোনো গাছের অংশ। পরে বিষয়টি অন্য জেলেদের জানান। মঙ্গলবার থেকে ডুবুরির সহায়তায় ৫০–৬০ জন স্থানীয় জেলে দুই দিন ধরে মাটি ও পলি সরিয়ে ধীরে ধীরে নোঙরটি নদ থেকে তোলেন। নোঙরটির সঙ্গে মোটা লোহার শিকলও পাওয়া গেছে।
স্থানীয়রা অনুমান করছেন, নোঙরটি সম্ভবত অনেক পুরোনো। ব্রিটিশ শাসনকাল বা পাকিস্তান আমলে আড়িয়াল খাঁ নদে বড় জাহাজ চলাচল করত হয়তো তখন কোনো জাহাজ থেকে নোঙরটি নদে পড়ে গিয়েছিল।
নোঙরের লম্বা প্রায় সাত ফুট, ওজন এখনও নিশ্চিত নয়, তবে স্থানীয়দের ধারণা এটি দেড় থেকে দুই টনের মধ্যে।
বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হাসান বলেন, নোঙরটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচ্য। আমরা বিষয়টি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) কে জানিয়েছি। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রশাসন ঘটনাস্থলে তদন্ত করবে।
প্রবীণ জেলে জামাল পঞ্চায়েত জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকে তিনি নদে কোনো বড় জাহাজ বা কার্গো দেখেননি। এত বড় নোঙর কীভাবে নদীতে পৌঁছেছে তা এখনও ধাঁধার মতো। বরিশাল নদীবন্দর কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
নোঙরের উদ্ধার শুধু স্থানীয়দের কৌতুহল বাড়িয়ে দেয়নি বরং আড়িয়াল খাঁ নদে ঐতিহাসিক নৌপরিবহন ও জাহাজ চলাচলের প্রমাণ হিসবেও গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিটিশ বা পাকিস্তান আমলের বড় জাহাজের অংশ হিসেবে নোঙরের উপস্থিতি নদীর ইতিহাস ও স্থানীয় নৌপরিকাঠামোর একটি অমূল্য নিদর্শন।