পান্তাভাত শুধু বাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবার নয় এটি স্বাদ ও পুষ্টি দুটোতেই অনন্য। গরমের দিনে এটি বিশেষভাবে জনপ্রিয় হলেও এর পুষ্টিগুণ সব ঋতুতেই গুরুত্বপূর্ণ। লাল চালের পান্তা সাদা ভাতের তুলনায় অনেক বেশি পুষ্টিকর। ভারতের আসামের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, রাতভর পানিতে ভিজিয়ে রাখা ভাতের মধ্যে আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও জিংকসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ অণুপুষ্টি বৃদ্ধি পায়। সাধারণ ভাতে আয়রনের পরিমাণ ৩.৫ মিলিগ্রাম কিন্তু ১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখা পান্তাভাতে তা বেড়ে ৭৩.৯ মিলিগ্রাম। ক্যালসিয়াম ২১ মিলিগ্রাম থেকে বেড়ে ৭৮৫ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৭৭ মিলিগ্রাম থেকে ৭৯৯ মিলিগ্রাম হয়ে যায়। ফারমেন্টেশনের কারণে ভাতে থাকা ফাইটেটের মতো অ্যান্টি-নিউট্রিশনাল ফ্যাক্টর দুর্বল হয়ে যায়, ফলে শরীর সহজে পুষ্টিকর উপাদানগুলো শোষণ করতে পারে। পান্তাভাতে ফারমেন্টেশনের কারণে ভালো ব্যাকটেরিয়াও জন্মায় যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং হজমশক্তি বাড়ায়। পান্তায় থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড ও মেটাবলাইটস শরীরকে প্রদাহ থেকে রক্ষা করে এবং ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে। এছাড়া পান্তাভাতে থাকা বিটা-সিটোস্টেরল ও কেম্পেস্টেরোল কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণায় দেখা গেছে, পান্তা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ধীর গতিতে বৃদ্ধি পায় এবং প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ ব্যাকটেরিয়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। যদিও পান্তাভাতের উপকারিতা অসংখ্য তবে সতর্কতাও গুরুত্বপূর্ণ। ১২ ঘণ্টার বেশি ফারমেন্টেশনের ফলে পান্তায় অ্যালকোহল তৈরি হতে পারে, যা পেটের পীড়া বা ডায়রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। ডায়াবেটিস রোগী ও যাদের ওজন বেশি, তাদের নিয়মিত পান্তা খাওয়া উচিত নয়। এছাড়া অপরিষ্কার পাত্র বা দূষিত পানি ব্যবহার করলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্ম নিতে পারে। সঠিকভাবে তৈরি ও সংরক্ষিত পান্তাভাত রক্তশূন্যতা কমাতে, অন্ত্রের স্বাস্থ্য বাড়াতে, হজমশক্তি উন্নত করতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। তাই এটি শুধু স্বাদের জন্য নয় স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবেও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গরমের দিনে ঠান্ডা, পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে পান্তাভাতকে খাদ্য তালিকায় রাখলে শরীর এবং মন দুইই উপকৃত হয়।