সমাজে প্রায় ভুলভাবে প্রচলিত বদলি রোজা ধারণা আছে। অনেকে মনে করেন, অসুস্থ বা বৃদ্ধ ব্যক্তি যিনি রোজা রাখতে পারেন না, তিনি অন্য কাউকে দিয়ে রোজা বদলি করাতে পারেন। কিন্তু ইসলামে বদলি রোজা নামে কোনো পরিভাষা নেই। যে বিধানকে আমরা বদলি রোজা ভাবি তা হলো ফিদইয়া।
যদি কেউ শরীরিক কারণে রোজা রাখতে অক্ষম হন বিশেষ করে বৃদ্ধ বা গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তি তাহলে প্রতিটি রোজার জন্য দরিদ্রদের জন্য খাদ্য বা নগদ অর্থ দান করা হয়। এটি সদকাতুল ফিতরের সমপরিমাণ হতে হবে।
ভবিষ্যতে যদি অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ হয়ে রোজা রাখতে পারেন তবে পূর্বের ফিদইয়া শুদ্ধভাবে ধার্য থাকবে এবং কাজা রোজা রাখতে হবে।
মৃত্যুর পরও ফিদইয়া আদায় করা যায় যদি ব্যক্তি নিজে রোজা রাখতে পারেননি।
ফিদইয়া দেওয়ার পরিমাণ হলো প্রতিদিন একজন দরিদ্রকে দুই বেলা খাবার খাওয়ানো বা সদকাতুল ফিতরের সমমূল্য অর্থ প্রদান।
কাজা রোজা: যাদের অসুস্থতা বা সফরের কারণে রোজা রাখা যায়নি তারা অন্য সময়ে রোজা পূরণ করবেন।
কাফফারা রোজা: যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভেঙ্গে দেন তবে ধার্যকৃত দু’মাস ধারাবাহিক রোজা রাখা বাধ্যতামূলক। নিষিদ্ধ দিন (ঈদ, তাশরিক ইত্যাদি) এ সময় পড়লে পুনরায় নতুন করে দু’মাস ধারাবাহিক রোজা রাখতে হবে।
একাধিক ব্যক্তিকে ফিদইয়া দেওয়া যায় তবে একজনকে পুরো ফিদইয়া দেওয়াই উত্তম।
রোজার পরিবর্তে অন্য কেউ রোজা রাখতে পারবে না। শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি শুদ্ধ হবে না।
অতিবৃদ্ধ বা অসুস্থদের ক্ষেত্রে ফিদইয়া আদায়ের মাধ্যমে তারা শারীরিক ইবাদত থেকে মুক্ত থাকেন।
ফিদইয়া, কাফফারা ও কাজা রোজার বিধান পবিত্র কোরআনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে (সূরা বাকারা: ১৮৪-১৮৫)।
ইসলামে কোনো বান্দার ওপর অপ্রয়োজনীয় বোঝা চাপানো হয় না। অসুস্থ বা সক্ষম নয় এমন ব্যক্তি সহজভাবে ফিদইয়া আদায় করে শরীয়তের দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
কাজা, ফিদইয়া, এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কাফফারা, কিন্তু কোনো অবস্থায় রোজা বদলি অন্যের মাধ্যমে পালন করা শারীরিক বা শারিয়তসম্মতভাবে অনুমোদিত নয়।