সোনালী আঁশের ফসল পাট। যা বহুদিন ধরে অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিত। এক সময় লালমনিরহাটের কৃষকরা পাট চাষে নির্ভরশীল ছিলেন। কিন্তু এখন বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকেরা পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো লালমনিরহাট জেলা।
কৃষকরা এখন পাট চাষ করছেন মূলত শাক হিসেবে ব্যবহারের জন্য। গত কয়েক বছরে লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে পাট শাকের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকেই পাট শাক চাষে ঝুঁকছেন। ফলে পাটের উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে, যা শুধু কৃষক নয়, সরকারের জন্যও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
জেলার ৫টি উপজেলা লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রামের ৪৫টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় এবার দেশি, তোষা সহ বিভিন্ন জাতের পাট চাষ হয়েছে। বিশেষ করে নিচু এলাকার জমিতে পাটের আবাদ বেশি হয়। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, কৃষকরা এখনো পাটের চেয়ে পাট শাককে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার শিবেরকুটি গ্রামের রেজাউল করিম জানান, ১ বিঘা জমিতে পাট উৎপাদনে খরচ হয় ৭-৮ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলেও পাটের বাজারদর কম হওয়ায় লাভের বদলে পুঁজি হারানোর ঝুঁকি থাকে।
অন্যদিকে সমপরিমাণ জমিতে পাট শাক চাষ করলে ৪০ দিনের মধ্যে আয় হয় ১৫-২০ হাজার টাকা। তাই এখন কৃষকরা পাট শাক চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
ফুলগাছ গ্রামের কৃষক হয়রত আলী বলেন, বাজারে পাটের চাহিদা নেই তাই আমরা পাট চাষ করি না। কিন্তু পাট শাকের চাহিদা বেশি এবং দ্রুত বিক্রি সম্ভব। তাই আমরা পাট শাক চাষ করি।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব বলেন, নদী-নালা ও খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ায় পাট চাষের ঝুঁকি অনেক বেড়ে গেছে। তবুও জেলার কিছু অংশে দেশি ও তোষা পাটের আবাদ এখনও হচ্ছে।
উল্লেখ্য, পাট শাকের পাশাপাশি লাল শাক, পুই শাক ও কলমী শাক চাষেও ঝুঁকছেন লালমনিরহাটের কৃষকরা।