আঘাত বা চোট না পেলেও অনেক সময় হাত-পায় হঠাৎ ব্যথা দেখা যায়। অনেকেই এটিকে গুরুত্ব দেন না, কিন্তু এই অবহেলা বিপদ ডেকে আনতে পারে।
বিশেষ করে রক্তনালিতে ব্লক বা রক্ত জমাট বাঁধার কারণে হাত-পায় হঠাৎ ব্যথা দেখা দিতে পারে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ও ভাস্কুলার সার্জন ডা. আবুল হাসান মুহাম্মদ বাশার জানান, এর প্রধান কারণ অ্যাকিউট লিম্ব ইশকেমিয়া।
অ্যাকিউট লিম্ব ইশকেমিয়ায় রক্তনালি বা ধমনির ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধে এবং সেই জমাট বাঁধা রক্ত শরীরের যেকোনো অংশে পৌঁছে রক্ত সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায়। মস্তিষ্কে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে স্ট্রোক হতে পারে আর হাত বা পায়ে হলে তা অ্যাকিউট লিম্ব ইশকেমিয়া নামে পরিচিত।
রক্তনালিতে সমস্যা অনেক কারণে ঘটতে পারে। ধমনির দেয়ালে আগে থেকেই জমে থাকা কলেস্টেরল বা ধমনির ফুলে যাওয়া অংশ (অ্যানিউরিজম) ভেঙে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে এবং পরবর্তী অংশের ধমনিকে বন্ধ করে দিতে পারে। এছাড়া ঘাড়ের নিচের অতিরিক্ত হাড় সারভাইকাল রিবও ধমনিতে চাপ সৃষ্টি করে রক্ত চলাচল বন্ধ করতে পারে।
রক্তের ঘনত্বও এই সমস্যার কারণ হতে পারে। পানিশূন্যতা বা রক্তের উপাদানগত সমস্যার কারণে রক্ত ঘন হলে তা ধমনির ভেতরে জমাট বাঁধতে পারে এবং রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আক্রান্ত অংশে তীব্র ব্যথা, ঠাণ্ডা অনুভূতি, ফ্যাকাশে বা নীল আঙ্গুল, বোধশক্তি ও নাড়াচড়ার কমে যাওয়া, এবং স্পন্দন না পাওয়া এই সবই অ্যাকিউট লিম্ব ইশকেমিয়ার লক্ষণ।
ক্রনিক লিম্ব ইশকেমিয়ায় রক্ত চলাচল ধীরে ধীরে কমে যায় ফলে শরীর বিকল্প পথ তৈরি করতে পারে। কিন্তু অ্যাকিউট লিম্ব ইশকেমিয়ায় রক্ত চলাচল কয়েক মিনিটের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছানো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসার বিলম্ব হলে অঙ্গহানি ঘটতে পারে। তাই হাত বা পায়ে হঠাৎ ব্যথা অনুভূত হলে তা অবহেলা করা চলবে না।
ডা. বাশারের পরামর্শ হলো, হঠাৎ ব্যথা দেখা দিলে সময় নষ্ট না করে নিকটস্থ হাসপাতালে বা রক্তনালি বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া। রোগ নির্ণয় বা রোগী পাঠানোর ক্ষেত্রে বিলম্ব করা উচিত নয়।
প্রাথমিক চিকিৎসা ও রক্তনালি অপারেশন দ্রুত শুরু করলে অঙ্গ রক্ষা সম্ভব। ঘাড়ে অতিরিক্ত হাড় থাকলে ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে তা সরিয়ে দেয়া হয়।
ডা. বাশার উল্লেখ করেন, অ্যাকিউট লিম্ব ইশকেমিয়ায় “টাইম ইজ লিম্ব” অর্থাৎ সময় নষ্ট করলে অঙ্গহানি হতে পারে।
সুতরাং হঠাৎ হাত-পায় ব্যথা অনুভূত হলে তা অবহেলা না করে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।