দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার আওতায় পরিচালিত ৯৫টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে ধাপে ধাপে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এ ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং প্রতিটি পরিবারের জন্য একটি ইউনিক ‘ওয়ান-আইডি’।
এ লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০২৬’ প্রণয়ন করছে। ইতোমধ্যে নীতিমালার খসড়া মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে।
আগামী অর্থবছর থেকে এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় একটি পরিবার কোন কোন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পাচ্ছে, তা একটি প্ল্যাটফর্ম থেকেই জানা যাবে। একই সঙ্গে একাধিক সুবিধা গ্রহণ, তথ্যগত অসঙ্গতি ও জালিয়াতি শনাক্ত করাও সহজ হবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি) মো. সাইফুল হক জানান, সরকারের বর্তমান মেয়াদে প্রায় ১ কোটি ৬১ লাখ মানুষকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরেই প্রায় ৪১ লাখ মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি পরিবারের জন্য একটি স্থায়ী ইউনিক ‘ওয়ান-আইডি’ থাকবে। এটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিকল্প নয়; বরং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির তথ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যবহার করা হবে।
ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হবে প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতিতে।
পরিবারের আয়, সম্পদ, জীবনযাত্রার মান ও অন্যান্য আর্থসামাজিক তথ্য বিশ্লেষণ করে স্কোর নির্ধারণ করা হবে। সবচেয়ে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলো অগ্রাধিকার পাবে।
এ ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র, এনবিআর, বিআরটিএ, ভূমি, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সরকারি তথ্যভান্ডারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে তথ্য যাচাই করা হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে জালিয়াতি ও অনিয়ম শনাক্তের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।
সরকারের আশা, ফ্যামিলি কার্ড ও ওয়ান-আইডি চালু হলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির স্বচ্ছতা, তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন আরও কার্যকর হবে।