প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান (Nature-based Solutions) উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা সুরক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উপায় বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে অনুষ্ঠিত ‘Prioritizing Nature-based Interventions for Resilient Coastal Bangladesh’ শীর্ষক জাতীয় কারিগরি কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। কর্মশালার আয়োজন করে ফ্রেন্ডশিপ ও কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনাল।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন, জলাভূমি, উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী এবং সমন্বিত কৃষি-বনায়ন ব্যবস্থার মতো প্রকৃতিভিত্তিক উদ্যোগ শুধু পরিবেশ সংরক্ষণেই নয়, প্রাণিসম্পদের খাদ্য সরবরাহ, প্রাণিস্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং মানব, প্রাণী ও পরিবেশের সমন্বিত ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণা বাস্তবায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেও দেশের উপকূলীয় অঞ্চল এখনও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর একটি। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার বিস্তার এবং নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিবেশের পাশাপাশি অর্থনীতি, কৃষি ও মানুষের জীবন-জীবিকায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে এ দুই খাতই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের অসংখ্য পরিবার গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে, যা তাদের আয়, পুষ্টি ও আর্থিক নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি।
তিনি আরও বলেন, টেকসই প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং তথ্যভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে সরকার কাজ করছে। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের জাতীয় কর্মসূচি পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কর্মশালায় ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান স্বাগত বক্তব্য দেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সচিব ড. মো. ফরিদুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান এবং কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৌরভ মালহোত্রা।