গাইবান্ধায় গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টির কারণে বোরো ধানের নিচু জমিতে পানি জমে গেছে। যার ফলে কিছু জমির ধানগাছ নুইয়ে পড়েছে। শনিবার (২ মে) বিকাল পর্যন্ত জেলার ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি আঘাত করা কালবৈশাখীর প্রভাবে প্রায় ২১২ হেক্টর জমির ধানগাছও নুইয়ে পড়েছে।
রবিবার (৩ মে) পলাশবাড়ী উপজেলার কুমারগাড়ি গ্রামের কৃষক আমিরুল ইসলাম (৫০) জানান, এ বছর তিনি তিন বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছেন। তবে গত কয়েকদিনের ঝড়বৃষ্টি ও পানি জমে থাকার ফলে ৮০ শতক জমির ধান পানিতে নুইয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, ঝড়বৃষ্টিতে জমিতে পানি আটকে আছে। ধান পুরোপুরি পাকা না হওয়ায় ঝড়ে গাছ পড়ে গেছে। খেতেও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না এবং খরচও অনেক বেড়ে গেছে।
এরই মধ্যে অন্তত ২০ জন কৃষক নুইয়ে পড়া ধান কাটার জন্য দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন। তবে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিকুল ইসলাম জানান, নতুন করে ঝড়বৃষ্টি না হলে ধানের ক্ষতি হবে না। তিনি কৃষকদের দ্রুত পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দিয়েছেন।
এ বছর গাইবান্ধায় ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। তবে কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে অনেক জমিতে পানি জমেছে এবং ঝড়ে উঠতি ধান নুইয়ে পড়েছে। জেলা কৃষি অফিস জানায়, শনিবার পর্যন্ত মোট ২% ধান কাটা হয়েছে।
রবিবার সরেজমিনে দেখা যায়, গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে পানি জমে থাকা খেত থেকে কৃষকরা ধান কেটে নিচ্ছেন। বিশেষত পলাশবাড়ী, কুমারগাড়ি, হরিণাবাড়ি, নান্দিশহর বিল, খামার নান্দিশহর এবং সদর উপজেলার বাদিয়াখালী এলাকার নিচু জমির আধা পাকা ধান ঝড়ে মাটিতে নুইয়ে পড়েছে। অনেক কৃষক এমন অবস্থায় আধা পাকা ধানও কেটে ফেলছেন।
হরিণাবাড়ি গ্রামের কৃষকরা জানান, সোলাগাড়ি বিলে প্রায় ৫০০ বিঘা জমিতে আধা পাকা ধান রয়েছে। তবে ইটভাটার কারণে নালাগুলো বন্ধ থাকায় পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই। এতে জমির ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এদিকে কৃষিশ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটার জন্য মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক কৃষক ৭-৮ হাজার টাকা মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাচ্ছেন না।
কৃষক রফিক মিয়া জানান, তিনি চার বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন, কিন্তু ঝড়ে এক বিঘা জমির ধান পানিতে নুইয়ে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না, মজুরি বেশি হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিকুল ইসলাম বলেন, যেসব জমিতে পানি জমেছে সেখানে পাকা ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আর যেখানে ধান পেকে উঠেনি সেসব জমিতে পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে কৃষকদের বলা হচ্ছে।
এভাবে চলতি মৌসুমে গাইবান্ধা জেলা কৃষকদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষকদের দাবি, যথাযথ পদক্ষেপ নিলে আগামী দিনে ধানের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।