অনেকেই রাতে ঘুমের সময় হঠাৎ ঘামে ভিজে যাওয়ার অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। অনেক ক্ষেত্রে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত এমনটি হলে তা শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, রাতের ঘাম নিজে কোনো আলাদা রোগ নয়। বরং শরীরে অন্য কোনো শারীরিক বা মানসিক সমস্যার লক্ষণ হিসেবে এটি দেখা দেয়। হরমোনের পরিবর্তন, সংক্রমণ, মানসিক চাপ কিংবা রক্তে শর্করার ওঠানামা এসব কারণে ঘুমের সময় অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে।
বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে রাতে ঘাম হওয়ার সমস্যা বেশি দেখা যায়। পেরিমেনোপজ বা মেনোপজের সময় ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমে গেলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেয়। ফলে ঘুমের সময় শরীর হঠাৎ গরম হয়ে গিয়ে অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে।
এ ছাড়া থাইরয়েড গ্রন্থির অতিরিক্ত সক্রিয়তা বা হাইপারথাইরয়েডিজম থাকলেও শরীরের বিপাকক্রিয়া বেড়ে যায়। যার ফলে রাতের ঘাম বাড়তে পারে।
কিছু সংক্রমণের ক্ষেত্রেও রাতের ঘাম একটি সাধারণ লক্ষণ। বিশেষ করে যক্ষ্মা, ভাইরাল বা ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং শরীরের তাপমাত্রা বাড়ে।
যদি রাতের ঘামের সঙ্গে জ্বর, দুর্বলতা, বা অকারণে ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা দীর্ঘদিনের উদ্বেগও রাতে ঘাম হওয়ার একটি কারণ হতে পারে। ঘুমের সময়ও আমাদের স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় থাকে। দুশ্চিন্তা বাড়লে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা শরীরের সিম্প্যাথেটিক সিস্টেমকে উদ্দীপিত করে।
এর ফলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে এবং শরীরে ঘাম তৈরি হয়। যারা অনিদ্রা, দুঃস্বপ্ন বা উদ্বেগজনিত সমস্যায় ভোগেন, তাদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
রাতে ঘাম হওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়া, যাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলা হয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীরা যারা ইনসুলিন বা নির্দিষ্ট ওষুধ গ্রহণ করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
রাতের ঘামের সঙ্গে সকালে মাথাব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা অস্বস্তি থাকলে রক্তে শর্করার ভারসাম্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি মাঝেমধ্যে এমন হয় তবে তা নিয়ে খুব বেশি চিন্তার কারণ নেই। তবে নিয়মিত রাতের ঘাম হলে অবশ্যই কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।
কিছু সাধারণ করণীয় : ঘুমানোর ঘর ঠান্ডা ও বাতাস চলাচলযোগ্য রাখা, ভারী খাবার বা ক্যাফেইন ঘুমের আগে এড়িয়ে চলা, নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস তৈরি করা
মানসিক চাপ কমাতে মেডিটেশন বা হালকা ব্যায়াম করা, সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাতের ঘাম চলতে থাকলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসা পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।