চোখ আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। দৈনন্দিন অভ্যাস, পরিবেশ ও খাদ্যাভ্যাসের প্রভাবে চোখের ওপর নানা ধরনের চাপ পড়ে। তাই চোখ ভালো রাখতে সচেতনতা ও সঠিক পুষ্টি—বিশেষ করে ভিটামিন ‘এ’অত্যন্ত জরুরি।
ভিটামিন ‘এ’ চোখের রেটিনা ও কর্নিয়ার সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই ভিটামিনের অভাবে বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে রাতকানা রোগ দেখা দিতে পারে যেখানে অন্ধকারে দেখার ক্ষমতা কমে যায়। সময়মতো ভিটামিন ‘এ’ গ্রহণ করলে এই সমস্যা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
চোখের যত্নে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মেনে চলা দরকার। যেমন : অপ্রয়োজনে চোখে হাত না দেওয়া, কারণ হাতের জীবাণু চোখে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। রোদে বের হলে সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিত যা সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে চোখকে সুরক্ষা দেয়। দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যবহার করলে চোখে চাপ পড়ে তাই মাঝে মাঝে বিরতি নেওয়া এবং স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কম রাখা উপকারী।
খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রেও সচেতনতা জরুরি। গাজর, মিষ্টি কুমড়া, ডিম, দুধ, কলিজা এবং সবুজ শাকসবজিতে ভিটামিন ‘এ’ প্রচুর পরিমাণে থাকে। পাশাপাশি ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ খাবারও চোখের স্বাস্থ্যে সহায়ক। সুষম খাদ্যাভ্যাস চোখকে সুস্থ রাখতে বড় ভূমিকা রাখে।
যারা কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন তাদের পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। লেন্স ব্যবহারের আগে হাত পরিষ্কার করা, নির্দিষ্ট সময় পর লেন্স পরিবর্তন করা এবং লেন্স পরে ঘুমানো থেকে বিরত থাকা জরুরি। একইভাবে চোখের মেকআপ ব্যবহারের পর তা ভালোভাবে পরিষ্কার করাও প্রয়োজন।
চোখে কোনো সমস্যা হলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করলে অনেক জটিল সমস্যা শুরুতেই শনাক্ত করা সম্ভব। সঠিক যত্ন ও পুষ্টি নিশ্চিত করলেই চোখ থাকবে সুস্থ ও সতেজ।