গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নে একটি টায়ার পাইরোলাইসিস প্ল্যান্টে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ও মূল্যবান মালামাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কারখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কেয়ারটেকারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে।
কারখানার মালিক মো. কামরুজ্জামান শ্রীপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। তিনি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এবং বর্তমানে ঢাকার বারিধারা ডিওএইচএস এলাকায় বসবাস করেন। সোনালী ব্যাংক পিএলসি’র মতিঝিল শাখা থেকে ঋণ নিয়ে তিনি ‘টেকরাইজ বিডি লিমিটেড’ নামে এই প্ল্যান্ট স্থাপন করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৮ সালে চালু হওয়া প্রকল্পটি করোনা মহামারির সময় বন্ধ হয়ে যায়। পরে নিরাপত্তার জন্য কেয়ারটেকার নিয়োগ দিয়ে কারখানাটি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। প্রায় এক বছর আগে জসিম উদ্দিন (৩২) ও তার পিতা আব্দুল হাকিম (৬০)-কে মাসিক বেতনে সার্বক্ষণিক দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৩০ মে সকালে মালিক কারখানায় গিয়ে দেখতে পান ভেতরের মূল্যবান যন্ত্রপাতি ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানে করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরে জানা যায়, ২৭ মে রাত থেকে ৩০ মে ভোরের মধ্যে ক্রেন ব্যবহার করে ভারী যন্ত্রপাতি ধীরে ধীরে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীরা পলাতক।
ক্ষয়ক্ষতির হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুটি ১০ টন ক্ষমতার পাইরোলাইসিস প্ল্যান্ট, জেনারেটর, অটো ফিডার রিয়্যাক্টর, ডিডাস্টিং সিস্টেম, ইলেকট্রিক্যাল কন্ট্রোল ক্যাবিনেটসহ বিভিন্ন ভারী শিল্পযন্ত্রাংশ।
ধারণা করা হচ্ছে, এসব যন্ত্রাংশ স্ক্র্যাপ বা চোরাই বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর প্রধান অভিযুক্ত জসিম উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে পরে ফোন বন্ধ করে দেন।
কারখানার মালিক কামরুজ্জামান বলেন, ব্যাংক ঋণ ও নিজের বিনিয়োগে গড়া এই প্রকল্প লুট হয়ে যাওয়ায় তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তিনি দ্রুত মালামাল উদ্ধার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মো. শাহীনুর আলম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলছে।