সাটুরিয়া ট্র্যাজেডি দিবস আজ, খবর পেয়ে ভোর বেলা সাইকেলে চেপে ছুটে গিয়ে দেখি সব শেষ
Reporter Name
Update Time :
রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
/
২৬
Time View
/
Share
বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকরতম টর্ণেডো ছোবল মেরেছিল আজ।
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা পরিণত হয়েছিল মৃত্যুপুরীতে। মৃত্যুবরণ করেছিলেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ।
গভীর শ্রদ্ধা রইল নিহত মানুষদের জন্য, স্মরণ করি সেই দুঃসহ সময়ে আমাদের মত শত শত তরুণকে যারা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন উদ্ধার আর ত্রাণতৎপরতায়।
” আজ ২৬ এপ্রিল, ১৯৮৯ সালের আজকের দিনে মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়ার উপর দিয়ে বয়ে যায় বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রলয়ংকরী এক টর্নেডো। মাত্র ২ মিনিটের সেই ঝড়ে সবকিছু লন্ডভন্ডে করে দিয়ে ধ্বংসস্তপ্তে পরিণত করে সাটুরিয়ার বাজার এবং এর আশেপাশের ১২ টি গ্রাম।
১৮০- ৩৫০ কিলোমিটার বেগের সেই টর্ণেডোতে বাজারে কোন ঘর বাড়ির অস্তিত্ব ছিলো না। সাটুরিয়া বাজার এবং এর আশে পাশের ১২ টি গ্রাম যেন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিলো। লাশের গন্ধে চারপাশ ভারী হয়ে গিয়েছিল।
সে সময় অবজারভার পত্রিকায় এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘‘ধ্বংসযজ্ঞ এতই নিঁখুত যে, সেখানে কিছু গাছের কঙ্কাল ছাড়া দৃশ্যত দাঁড়ানো আর কোনো বস্তু নেই৷
”ইতিহাসের ভয়াল এই ঝড়ের তান্ডবে চাল ভর্তি ট্রাক নদীর ওপারে হাসপাতাল গেটে গিয়ে পড়েছিলো। ১৯৮৯ সালের ভয়াবহ টর্নেডো রেকর্ডভাঙা আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট ঘটনা হিসেবে নথিভুক্ত করেছে জাতিসংঘের আবহাওয়া বিষয়ক সংস্থা (ডব্লিউএমও)।
অল্প সময়ের মধ্যে টর্নেডোতে এত ভয়াবহ ধ্বংসলীলার কারণে সাটুরিয়ার টর্নেডোকেই ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ টর্ণেডো হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।
২৬ এপ্রিলের টর্ণেডোতে ছয় বর্গকিলোমিটার এলাকা পুরোপুরি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয় ৷ আর এতে প্রাণ হারান প্রায় ১,৩০০ মানুষ এবং অঙ্গহানি হয় প্রায় ২ হাজারের মতো মানুষের, আহত হন ১২ হাজার মানুষ। গৃহহহীন হন প্রায় ১ লক্ষ মানুষ। এখনও অনেকেই সেই পঙ্গুত্ব বয়ে বেড়াচ্ছেন।