
হাম বা Measles একটি ভাইরাস জনিত খুবই ছোয়াচে(contagius) রোগ।ইহা সাধারণত শিশুদের বেশি আক্রান্ত করে। ইহা ছাড়া যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম যেমন ক্যান্সার রোগী, অতি বয়স্ক বা পুষ্টি হীন শিশুদের মধ্যে মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।
কি ভাবে ছড়ায় ?
সাধারণত হাম আক্রান্ত রোগীর হাচি,কাশি বা সরাসরি শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে(droplets infection )ছড়িয়ে থাকে।
কাদের জন্য বেশি সতর্কতা?
ছোট শিশু,পুষ্টিহীন শিশু, গর্ভবতী মা ও ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী।
হামের লক্ষণ সমূহ:
ভাইরাস শরীরে প্রবেশের ১০-১২ দিন পরে লক্ষণ সমূহ প্রকাশ পায়
** জ্বর ও মাথা ব্যথা – জ্বর ১০১° থেকে ১০৫° ডিগ্রি পযর্ন্ত হতে পারে।
** হাচি -কাশি ও সর্দি( coryza)
**চোখ দিয়ে পানি পড়া ও চোখ লাল হয়ে যাওয়া (conjunctivitis)
**২-৩ দিন পর মুখের ভিতর সাদা দাগ(copliks spots )
৩-৫ দিন পর হামের লালচে র্যাশ যা প্রথমে কপাল, মুখ, ঘাড় এবং পর্যায়ক্রমে সারা শরীরে দেখা দেয়।
কোন কোন রোগীর শ্বাস কষ্ট ও ডায়রিয়া হতে পারে।
জটিলতা সমূহ
হাম মারাত্মক জটিল হতে পারে এমনকি মৃত্যু ও হতে পারে। হাম প্রায়শ Epidemic আকারে দেখা দেয় যা বতর্মান চলমান। তাই হাম জটিল হওয়ার আগেই চিকিৎসক বা স্বাস্থ্য কর্মীকে অবহিত করতে হবে।
জটিলতা
**নিউমোনিয়া বা তীব্র শ্বাস কষ্ট
** কান পাকা ও কানে প্রদাহ
** মারাত্মক ডায়রিয়া
** চোখে কম দেখা ও অন্ধত্ব
**মস্তিষ্কে প্রদাহ বা Enchepalitis.
**গর্ভজণিত জটিলতা ও জন্মগত ত্রুটি।
চিকিৎসা
যেহেতু রোগটি ভাইরাস জনিত তাই প্রধান চিকিৎসা হলো Supportive অর্থাৎ প্রথমেই বাচ্চা বা রোগীকে আলাদা করা ( isolation)
**চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া
**জ্বর কমাতে sponging প্যারাসেটামল ঔষধ ব্যবহার করা।
**বেশি বেশি তরল খাবার খাওয়ানো
**জটিলতা প্রতিরোধ এ ব্যবস্থা নেয়া।
প্রতিরোধ ব্যবস্থা
**হামের টীকা খুবই কার্যকর ও সরকারি ভাবে দেয়া হয়।
ইপিআই সিডিউল অনুযায়ী বাচ্চার বয়স ৯ মাসে প্রথম ডোজ ১৫ মাসে দ্বিতীয় ডোজ MR টীকা দেয়া হয়
*টীকা খুব কার্যকর
টীকা প্রায় ৯৭-৯৯% প্রতিরোধ দেয়
*টীকাকৃত শিশুর হাম হলেও জটিলতা কম হবে
* অন্ধত্ব প্রতিরোধে ভিটামিন এ খাওয়ানো
* শিশুর পুষ্টি বিষয়ে যত্নবান হওয়া।
* সামাজিক সচেতনতা ও স্বাস্থ্য শিক্ষা
* সরকারি তদারকি ও
* কার্যক্রম বৃদ্ধি করা
* ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করা।
লেখক: সাবেক সিভিল সার্জন, শরীয়তপুর
সাবেক পরিচালক, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল