বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০২:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
ধামরাইয়ে নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারীকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে ছাত্রদল তীব্র দাবদাহে জাপানের চিড়িয়াখানায় তিন সিংহীর মৃত্যু ৫ আগস্ট ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে র‍্যাব বিসিবি প্রকাশ করল মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ সফরের সূচি রংপুরে বেরোবি ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ, নিরাপত্তা জোরদার মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ শীর্ষ প্রশাসনে আসছে বড় পরিবর্তন প্রবাসীদের এনআইডি আবেদনে কড়াকড়ি, ৭ দিনের সময় বেঁধে দিল ইসি রামদা খালে অবাধ বালু উত্তোলন, ঝুঁকিতে বসতবাড়ি ও সড়ক ছাত্র রাজনীতির সংঘর্ষে উত্তপ্ত বেরোবি, শান্তি ফেরাতে ১৪৪ ধারা ভারতীয় কাঁচামরিচের আমদানিতে বাজারে স্বস্তি, একদিনেই কেজিতে কমল ৫০ টাকা একজন সমাজ সেবক ও উদ্যোক্তা তৈরির সুনিপুণ কারিগরের গল্প ধামরাইয়ে স্বামীর নির্যাতনে ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু, ২-৫ দিনের মধ্যে কমতে পারে দাম প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানেই উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু সহনশীলতা বাড়বে: প্রতিমন্ত্রী টুকু ৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতার সক্ষমতা আওয়ামী লীগের নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘১৭ বছরের আন্দোলনের ফল’—৫ আগস্টকে কেন ‘অলৌকিক’ বললেন মির্জা ফখরুল সরকারের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেন প্রাথমিকের নতুন শিক্ষকরা বেনজীরের কাছে অন্য দেশের পাসপোর্ট থাকতে পারে, জামিন বাতিলে পদক্ষেপ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের পাশে অস্ট্রেলিয়া, ঘোষণা ২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের অনুদান যুক্তরাষ্ট্রে ১৯ কনসার্ট, দেশে মুক্তি পেল কনার নতুন গান
Notice :

ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত ছোট্ট ফাহিমকে বাঁচাতে পরিবারের আঁকুতি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

ঘর আলো করে এসেছিল ছোট্ট শিশু ফাহিম। তার আগমনে পুরো বাড়িটাই যেন আলোর রোশনাইয়ে ভরপুর হয়ে উঠেছিল। এই হাসি আনন্দে আর বেশিদিন যেন স্থায়ী হলো না। হঠাৎ করেই বিষাদে পরিণত হল সব রোশনাই। মরণব্যাধী ব্লাড ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে ফাহিমের রক্তে। চিকিৎসকরা জানালেন সুস্থ্য করতে অর্থ লাগবে প্রায় ৩০/৩৫ লাখ টাকা। মোবাইল মেকানিকস বাবা আর দিনমজুর দাদার কতটুকুই বা সামর্থ আছে! তাহলে কি অর্থের কাছে থমকে যাবে ফাহিমের জীবন! এরপর শুরু হলো পরিবারটির লড়াই। দীর্ঘ দশমাস লড়াই করে এখন সুস্থতার দিকে ফাহিমের জীবন হাতছানি দিচ্ছে। আর দেড় বছর নিয়মতান্ত্রিকভাবে চিকিৎসা করতে পারলেই আর দশটা শিশুর মত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে ফাহিম। এজন্য দরকার ৫/৬ লক্ষ টাকা। কিন্তু কে দেবে এই টাকা!
সরজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের তালুক আষারু গ্রামের মোবাইল মেকার মিজানুর রহমান ও গৃহবধূ ফেন্সি আক্তারের ৫ বছরের শিশু সন্তান ফাহিম আহমেদ। প্রায় এক বছর পূর্বে পিজি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সন্তানের শরীরে প্রথম ব্লাড ক্যান্সারের আলামত সনাক্ত হয়। পরিবারের একমাত্র সন্তানকে বাঁচাতে মিজানুর রহমান রাজারহাট বাজারে অবস্থিত তার মোবাইল দোকানের পজেশনসহ মালপত্র বিক্রি করে দেন। এরপর এনজিও থেকে ঋণ করা হয় ৫ লক্ষ টাকা। পরে অর্থ না পেয়ে বসতবাড়ি ব্যাংকে মর্টগেজ রেখে ৬ লাখ টাকা নিয়ে সন্তানের চিকিৎসার পিছনে ব্যয় করা হয়। এসময় পাশে দাঁড়ান সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাসহ কিছু সহ্নদয়বান ব্যক্তি। তাদের যৌথ সহায়তায় চিকিৎসা কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু বর্তমানে চরম সংকটে রয়েছে পরিবারটি। জমানো সব অর্থ শেষ হয়ে গেছে। এখন ফাহিমের জন্য কেমো দেয়া, ইনজেক্শন দেয়ার টাকা সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশুটিকে বাঁচাতে এখন ৫/৬ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করতে পারলেই চিকিৎসার ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে। এই অর্থ এই পরিবারের পক্ষে সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। তাই পরিবারটি আবারও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, দেশ-বিদেশে কর্মরত সহ্নদয়বান ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে আর্থিক সহায়তার আর্জি জানিয়েছেন।
ফাহিমের দাদা আব্বাছ আলী জানান, নাতির জন্য চিকিৎসার অর্থ জোগেতে বাড়িঘর দোকানপাট সব গেছে। এরমধ্যেই প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে। নাতির মুখের দিকে তাকিয়ে সবরকম চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন আমরা নিরুপায় হয়ে গেছি। নিজেরাও চলতে পারছি না, নাতিটার চিকিৎসাও ঠিকমতো করাতে পারছি না।
ফাহিমের বাবা মিজানুর রহমান জানান, এখন আমার ছেলেটা অনেকটা সুস্থ্যতার দিকে। আরও দেড় বছর তাকে কেমোসহ চিকিৎসাধীনে রাখা হলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এখনো তার চিকিৎসার জন্য প্রায় ৫/৬ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। আমাদের এখন বিক্রি করার মত এক টুকরো সুতোও নেই। এখন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা দেশ বিদেশের ভাইয়েরা পারেন আমার সন্তানকে বাঁচাতে সহযোগিতার হাত বাড়াতে।
ফাহিমের দাদি মমতার বেগম বলেন, কলিজার টুকরা নাতির জন্য বুকটা ফেঁটে যাচ্ছে। আমাদের পরিবারের বংশের প্রদীপ। ফুটফুটে নাতিটাকে বাঁচাতে ঘটি-বাটি সব শেষ করে ফেলেছি। এখন অর্থের কারণে চিকিৎসা আটকে আছে। আপনারা সহযোগিতা করলে নাতিটাকে পুরোপুরি বাঁচাতে পারবো।
ফাহিমের মা ফেন্সি আক্তার বলেন, অন্য বাচ্চারা খেলাধূলা করতে যায়, স্কুলে যায় আমার সন্তান আমাকে প্রশ্ন করে মা আমি কখন খেলাধূলা করতে যাবো। কবে স্কুলে যাবো। সন্তানের কথায় আমার বুকটা ফঁটে যায়। আমরা সবকিছু বিক্রি করে শেষ করে দিয়েছি। এখন আমার বাচ্চাটার চিকিৎসা হবে কিভাবে! একথা বলেই হাঁউমাউ করে কেঁদে ওঠেন তিনি।
ছোট্ট ফাহিমের সাথে কথা বললে, সে আমাদেরকে আধো আধো স্বরে বেশ কয়েকটি ছড়া শুনিয়ে বলে, আমার অসুখ! আপনারা যারা যারা পারবেন আমার জন্য দোয়া করবেন, আমি যেন স্কুলে যেতে পারি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *