বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০১:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
জুলাই ২০২৪-এর আত্মত্যাগ এবং আমাদের নাগরিক দায়বদ্ধতা-লায়ন শাহাদাত হোসেন ধামরাইয়ে নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারীকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে ছাত্রদল তীব্র দাবদাহে জাপানের চিড়িয়াখানায় তিন সিংহীর মৃত্যু ৫ আগস্ট ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে র‍্যাব বিসিবি প্রকাশ করল মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ সফরের সূচি রংপুরে বেরোবি ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ, নিরাপত্তা জোরদার মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ শীর্ষ প্রশাসনে আসছে বড় পরিবর্তন প্রবাসীদের এনআইডি আবেদনে কড়াকড়ি, ৭ দিনের সময় বেঁধে দিল ইসি রামদা খালে অবাধ বালু উত্তোলন, ঝুঁকিতে বসতবাড়ি ও সড়ক ছাত্র রাজনীতির সংঘর্ষে উত্তপ্ত বেরোবি, শান্তি ফেরাতে ১৪৪ ধারা ভারতীয় কাঁচামরিচের আমদানিতে বাজারে স্বস্তি, একদিনেই কেজিতে কমল ৫০ টাকা একজন সমাজ সেবক ও উদ্যোক্তা তৈরির সুনিপুণ কারিগরের গল্প ধামরাইয়ে স্বামীর নির্যাতনে ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু, ২-৫ দিনের মধ্যে কমতে পারে দাম প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানেই উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু সহনশীলতা বাড়বে: প্রতিমন্ত্রী টুকু ৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতার সক্ষমতা আওয়ামী লীগের নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘১৭ বছরের আন্দোলনের ফল’—৫ আগস্টকে কেন ‘অলৌকিক’ বললেন মির্জা ফখরুল সরকারের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেন প্রাথমিকের নতুন শিক্ষকরা বেনজীরের কাছে অন্য দেশের পাসপোর্ট থাকতে পারে, জামিন বাতিলে পদক্ষেপ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের পাশে অস্ট্রেলিয়া, ঘোষণা ২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের অনুদান
Notice :

মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ শীর্ষ প্রশাসনে আসছে বড় পরিবর্তন

কথাভিশন রিপোর্ট
ছবি: সংগৃহীত

দেশের জনপ্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে আবারও বড় ধরনের রদবদলের প্রস্তুতি চলছে। চলতি মাসেই মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এছাড়া গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে বা শূন্য হওয়ার পথে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এসব পদে নতুন নিয়োগের পাশাপাশি সচিব ও অতিরিক্ত সচিব পর্যায়েও একাধিক রদবদল হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেই আসবে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, মেয়াদ শেষ হওয়া চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তাদের কেউ কেউ গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকতে পারেন। আবার নিয়মিত প্রশাসন ক্যাডারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্য থেকেও নতুন পদায়নের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সরকার শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপরই নির্ভর করবে প্রশাসনের পরবর্তী রদবদলের চিত্র।

এদিকে ২৯ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. সাইদুর রহমান খান। একই দিনে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মো. ফজলুর রহমান। এসব নিয়োগকে প্রশাসনের চলমান পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দেশের জনপ্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে আবারও বড় ধরনের রদবদলের আভাস মিলেছে। প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে পরিবর্তন এলে শুধু একজন কর্মকর্তার বদলি হয় না; বরং তার প্রভাব পড়ে একাধিক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পদায়ন, বদলি ও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসে। ফলে শীর্ষ পর্যায়ের একটি সিদ্ধান্ত প্রশাসনের বিস্তৃত অংশে পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে জনপ্রশাসনে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস শুরু হয়। সে সময় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা বহু সচিব ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয় এবং অনেককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন কর্মকর্তাদের পদায়ন এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ধারাও শুরু হয়, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম ছয় মাসেই ১৪ জন জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিব, একজন গ্রেড-১ কর্মকর্তা এবং ১৯ জন অতিরিক্ত সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। একই সময়ে ২৩ জন সচিব, দুইজন গ্রেড-১ কর্মকর্তা এবং ৫১ জন অতিরিক্ত সচিবকে ওএসডি করা হয়। পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন পর্যায়ে এই পুনর্বিন্যাস চলতে থাকে।

প্রথমদিকে কিছু চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হলেও পরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পুনরায় চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট একসঙ্গে পাঁচজন সাবেক অতিরিক্ত সচিবকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাঁদের কয়েকজনের দায়িত্বেও পরিবর্তন আনা হয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের আগে প্রশাসনের সর্বোচ্চ দুটি পদে পরিবর্তন আসে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে থাকা মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছাড়েন। পরে নাসিমুল গনিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং সাবেক সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়।

চলতি মাসেই মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. এহছানুল হকের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে কারা দায়িত্ব পাবেন, তা নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব সরকারের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হওয়ায় এ পদে নিয়োগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। একইভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি, পদোন্নতি ও পদায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এই মন্ত্রণালয় থেকেই বাস্তবায়ন করা হয়।

বর্তমানে প্রশাসনের অন্যতম আলোচিত বিষয় হলো সরকার কি আগের মতো চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ধারা অব্যাহত রাখবে, নাকি নিয়মিত কর্মরত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্য থেকেই গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করবে। সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই প্রশাসনের পরবর্তী রদবদলের চিত্র নির্ভর করবে।

জনপ্রশাসনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে শীর্ষ প্রশাসনিক পদে এ ধরনের নিয়োগের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিষয়টি প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জনপ্রশাসনে মোট কর্মকর্তা রয়েছেন ৬ হাজার ৬৯৭ জন। তাদের মধ্যে সচিব ও সমমর্যাদার পদে কর্মরত আছেন ৭৯ জন। এর মধ্যে ২৩ জনই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত, যা মোট সচিবের প্রায় ২৯ শতাংশ।

অন্যদিকে বর্তমানে ১০ জন সচিবকে নিজ নিজ দপ্তর থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রাখা হয়েছে। যদিও তাদের চাকরির নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়নি, তবুও বর্তমানে তাদের কোনো দাপ্তরিক দায়িত্ব নেই। পাশাপাশি প্রশাসনিক কারণে একজন সচিবকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।

বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালনকারীদের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ছাড়াও আছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ, ভূমি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (জ্যেষ্ঠ সচিব) মো. নেয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, শিল্পসচিব আব্দুন নাসের খান, কৃষিসচিব রফিকুল আই মোহাম্মদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সচিব মো. আবদুস সবুর, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরী, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মকসুমুল হাকিম চৌধুরী, বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সি এম ইউসুফ হোসাইন, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান, কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম ফজলুজ্জোহা, রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এবং ওয়াক্ফ প্রশাসক সাফিজ উদ্দিন আহমেদ। এর বাইরে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ জকরিয়াও সচিব পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করছেন।

বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন অনেক বছর আগেই সরকারি চাকরি থেকে অবসরে গেছেন। সরকারি চাকরিতে অবসরের স্বাভাবিক বয়স ৫৯ বছর, আর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে তা ৬০ বছর। আইন অনুযায়ী, অবসরের পর কাউকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। প্রয়োজন হলে সরকার অভিজ্ঞ যে কাউকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগ দিতে পারে।

তবে দীর্ঘদিন আগে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের আবারও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি সচিবালয়সহ প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সমর্থকদের মতে, এসব কর্মকর্তার অনেকেই আগের সরকারের সময় যথাসময়ে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। পরে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি পেলেও সচিব বা সমপর্যায়ের দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাননি। তাই তাদের দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা রাষ্ট্রের কাজে লাগাতে সীমিত সময়ের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত।

অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, অতীতে অবসরের পরপরই প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত আকারে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে বহু বছর আগে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদেরও নিয়মিত প্রশাসনিক দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। তাদের মতে, এতে প্রশাসনের স্বাভাবিক পদোন্নতি কাঠামো ব্যাহত হচ্ছে এবং কর্মরত কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ার অগ্রগতির সুযোগও সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, যিনি পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেন, তার মতে দীর্ঘদিন আগে অবসরে যাওয়া অনেক কর্মকর্তা ইতোমধ্যে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন। সরকার চাইলে তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে আলাদা পরামর্শক পরিষদ গঠন বা বিশেষ দায়িত্ব প্রদান করতে পারে। তবে নিয়মিত সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সংখ্যা বাড়তে থাকলে প্রশাসনিক কাঠামোর ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের নিয়োগ বাড়লে কর্মরত কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুযোগ কমে যায় যা তাদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা তৈরি করে। তার ভাষ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শীর্ষ প্রশাসনিক পদে অতিরিক্ত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে কাজ পরিচালনার অভিজ্ঞতা খুব একটা ইতিবাচক ছিল না। তারপরও একই ধারা অব্যাহত থাকায় প্রশাসনের ভেতরে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়। ২০১৫ সালের জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী একজন সচিবের মূল বেতন ৭৮ হাজার এবং একজন জ্যেষ্ঠ সচিবের মূল বেতন ৮২ হাজার টাকা। এর পাশাপাশি সরকারি বাসভবন, বাড়িভাড়া, সার্বক্ষণিক গাড়ি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও দেওয়া হয়। ফলে এ ধরনের নিয়োগের সংখ্যা যত বাড়ছে ততই সরকারের আর্থিক ব্যয়ের পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সালাহউদ্দিন এম. আমিনুজ্জামানের মতে, বিশেষ দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত পরিসরে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। তবে এটি যেন নিয়মে পরিণত না হয়।

তার মতে, অতিরিক্ত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রশাসনিক কাঠামোয় ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করতে পারে এবং নিয়মিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতির স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে হতাশার জন্ম দিতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *