বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
জুলাই ২০২৪-এর আত্মত্যাগ এবং আমাদের নাগরিক দায়বদ্ধতা-লায়ন শাহাদাত হোসেন ধামরাইয়ে নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারীকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে ছাত্রদল তীব্র দাবদাহে জাপানের চিড়িয়াখানায় তিন সিংহীর মৃত্যু ৫ আগস্ট ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে র‍্যাব বিসিবি প্রকাশ করল মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ সফরের সূচি রংপুরে বেরোবি ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ, নিরাপত্তা জোরদার মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ শীর্ষ প্রশাসনে আসছে বড় পরিবর্তন প্রবাসীদের এনআইডি আবেদনে কড়াকড়ি, ৭ দিনের সময় বেঁধে দিল ইসি রামদা খালে অবাধ বালু উত্তোলন, ঝুঁকিতে বসতবাড়ি ও সড়ক ছাত্র রাজনীতির সংঘর্ষে উত্তপ্ত বেরোবি, শান্তি ফেরাতে ১৪৪ ধারা ভারতীয় কাঁচামরিচের আমদানিতে বাজারে স্বস্তি, একদিনেই কেজিতে কমল ৫০ টাকা একজন সমাজ সেবক ও উদ্যোক্তা তৈরির সুনিপুণ কারিগরের গল্প ধামরাইয়ে স্বামীর নির্যাতনে ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু, ২-৫ দিনের মধ্যে কমতে পারে দাম প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানেই উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু সহনশীলতা বাড়বে: প্রতিমন্ত্রী টুকু ৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতার সক্ষমতা আওয়ামী লীগের নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘১৭ বছরের আন্দোলনের ফল’—৫ আগস্টকে কেন ‘অলৌকিক’ বললেন মির্জা ফখরুল সরকারের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেন প্রাথমিকের নতুন শিক্ষকরা বেনজীরের কাছে অন্য দেশের পাসপোর্ট থাকতে পারে, জামিন বাতিলে পদক্ষেপ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের পাশে অস্ট্রেলিয়া, ঘোষণা ২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের অনুদান
Notice :

জুলাই ২০২৪-এর আত্মত্যাগ এবং আমাদের নাগরিক দায়বদ্ধতা-লায়ন শাহাদাত হোসেন

Reporter Name
ছবি: সংগৃহীত

(মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন)

জুলাই ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য ও নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এই আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক ও সর্বজনীন গণতান্ত্রিক এক নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বৈরাচারী মনোভাব ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে সাধারণ মানুষের এ এক ঐতিহাসিক বলিষ্ঠ অবস্থান। কিন্তু আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের বিদ্যমান সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেই অসামান্য অর্জনের মর্যাদা রক্ষা ও মূল ভাবনার সঠিক বাস্তবায়ন এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

আন্দোলনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল সাম্য ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন না হওয়া, গণপিটুনি, ‘মব জাস্টিস’ (Mob Justice) এবং ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক আক্রোশ মেটানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়া নি:সন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাকে সঠিক আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিচার না করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া আন্দোলনের চেতনা ও বৈষম্যহীন সমাজের মূল দর্শনের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

প্রাতিষ্ঠানিক বিশৃঙ্খলা ও ধীরগতির সংস্কার সাধারণ মানুষের মাঝে হতাশার সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কেন্দ্রীয় প্রশাসন ও কর্মক্ষেত্রে যে শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতা আশা করা হয়েছিল, সেখানে অনেক ক্ষেত্রে অস্থিরতা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। পাশাপাশি, আন্দোলনে শহীদদের পরিবারের যথাযথ মূল্যায়ন, আহতদের দ্রুত ও আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং তাদের পুনর্বাসনের গতি আশানুরূপ না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।

অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। স্বৈরাচারী ব্যবস্থার অবসানের সাথে সাথে বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ ও দুর্নীতির লাগাম টানার যে তীব্র প্রত্যাশা ছিল, অর্থনৈতিক মন্দা ও প্রয়োজনীয় কাঠামোগত পদক্ষেপের অভাবে তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

আন্দোলন চলাকালীন যে অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল—যেখানে ছাত্র, শ্রমজীবী, সাধারণ নাগরিক ও বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষ এক পতাকাতলে এসে দাঁড়িয়েছিল—বর্তমানে সেই ঐক্যে চিড় ধরার স্পষ্ট আলামত দেখা যাচ্ছে। আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে কৃতিত্ব নেওয়ার প্রতিযোগিতা, কাদা ছোড়াছুড়ি এবং পারস্পরিক বিভাজন বিপ্লবের মূল অর্জনকে ম্লান করে দিচ্ছে।

জুলাই ২০২৪ কোনো একটি নির্দিষ্ট দিন বা মুহূর্তের ঘটনা নয়; এটি একটি চলমান দর্শন এবং দীর্ঘমেয়াদি আদর্শিক পরিবর্তনের সূচনা। শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আন্দোলনকারীদের রক্ত লালিত স্বপ্নকে কেবল স্মৃতিচারণায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। বিশৃঙ্খলা, বিভাজন ও সংকীর্ণ স্বার্থচিন্তায় আটকে থাকলে আমরা জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের উপযুক্ত সম্মান দিতে ব্যর্থ হব। এই ভুলভ্রান্তিগুলো শুধরে নিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রের সুনির্দিষ্ট সংস্কার, সহনশীলতা প্রদর্শন, পরমতসহিষ্ণুতা চর্চা এবং নাগরিক হিসেবে যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করাই এখন সময়ের প্রধান দাবি। তবেই জুলাইয়ের ত্যাগের প্রকৃত মর্যাদা রক্ষা পাবে এবং একটি সত্যিকার অর্থে মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

লেখক: সমাজ সেবক ও সংগঠক


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *