শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৪:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
প্রতিটি নাগরিকের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে চাই’ : মির্জা ফখরুল সব নাগরিককে বিবেচনায় রেখেই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে : অর্থমন্ত্রী মোড়েলগঞ্জে বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত পাতলী খালের পুন:খনন কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী এবার বিদায় রাজ্যসভা থেকে কোয়েল মল্লিকের ফাহিমার জন্য ন্যায়বিচার চাই: রোটারিয়ান ড. মীর শাহ আলম সাইবার সুরক্ষা আইনে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ, ভুয়া কনটেন্ট অপসারণে আসছে নতুন বিধান বার কাউন্সিলের এমসিকিউ পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাস ৯ হাজার ২০১ প্রার্থী প্যারাগুয়েকে উড়িয়ে বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস গড়ল যুক্তরাষ্ট্র সালমান শাহর মাকে হুমকির অভিযোগ: কী বললেন অভিনেতা শিবা শানু? বাজেটে সুশাসনের রূপরেখা না থাকায় হতাশ টিআইবি আদ-দ্বীনের শোকজের জবাবে সন্তুষ্ট নয় অসন্তুষ্ট সরকার চলতি মাসেই ইনু-হানিফের মামলার রায়ের প্রত্যাশা চিফ প্রসিকিউটরের ভয়াবহ গণগুলিবর্ষণে জোহানেসবার্গে নিহত ১২, আহত ৯ ৫৩ কোটি টাকার বিনামূল্যে চারা ও সার বিতরণ করবে সরকার চা বিক্রেতার দাবি ঘিরে তোলপাড়, হাসনাত আবদুল্লাহ নিয়ে নতুন বিতর্ক স্বাস্থ্য খাতে বড় বাজেট, ২৫ লাখ মানুষের জন্য ই-হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ তিন মাসে ১৭ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত বাজেট ২০২৬-২৭: কোন পণ্যে মিলবে স্বস্তি, কোথায় বাড়বে খরচ:নিত্যপণ্য থেকে প্রযুক্তি খাতে করছাড়, সিগারেট-রড-বিলাসপণ্যে বাড়ছে চাপ লাইনচ্যুত ট্রেন উদ্ধারে গিয়ে বিপাকে রিলিফ ট্রেনও বন্ধ ময়মনসিংহ-জামালপুর রেল যোগাযোগ
Notice :

শান্তি ও শৃঙ্খলার পূর্বশর্ত হচ্ছে জবাবদিহিতা

Reporter Name

-মিজানুর রহমান

মানবসভ্যতার ইতিহাসে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সবসময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ কিংবা রাষ্ট্র—প্রত্যেক স্তরে সুশৃঙ্খল পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রয়োজন দায়িত্ববোধ, ন্যায়পরায়ণতা ও পারস্পরিক সম্মান। কিন্তু এই সব কিছুর ভিত্তিতে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করে, তা হলো জবাবদিহিতা। যেখানে জবাবদিহিতা থাকে, সেখানে অন্যায় কমে, দায়িত্ববোধ বাড়ে এবং মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়। তাই বলা যায়, শান্তি ও শৃঙ্খলার পূর্বশর্ত হচ্ছে জবাবদিহিতা।

জবাবদিহিতা বলতে বোঝায় নিজের কাজের জন্য অন্যের কাছে দায়বদ্ধ থাকা। একজন ব্যক্তি যখন জানেন যে তার কাজের হিসাব দিতে হবে, তখন তিনি দায়িত্বশীল আচরণ করতে সচেষ্ট হন। অন্যদিকে জবাবদিহিতার অভাব মানুষকে স্বেচ্ছাচারী ও অসৎ করে তোলে। পরিবারে যদি সন্তানদের কাজের প্রতি নজরদারি না থাকে, তবে তারা সহজেই ভুল পথে যেতে পারে। একইভাবে সমাজ ও রাষ্ট্রে যদি প্রশাসন, রাজনীতি বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহিতা না থাকে, তবে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধি পায়।

বর্তমান বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় জবাবদিহিতার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন। জনগণ চায় স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার এবং সুশাসন। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকবে—এটাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা। যখন প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো স্বচ্ছভাবে কাজ করে এবং জনগণের প্রশ্নের উত্তর দেয়, তখন মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পায়। ফলে সমাজে স্থিতিশীলতা ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও জবাবদিহিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষক যদি দায়িত্বশীল না হন, শিক্ষার্থীরা সঠিক শিক্ষা পাবে না। আবার শিক্ষার্থীদেরও তাদের পড়াশোনা ও আচরণের জন্য জবাবদিহিতার মধ্যে থাকতে হয়। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় থাকে। একইভাবে কর্মক্ষেত্রে কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা থাকলে কাজের মান উন্নত হয় এবং প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় থাকে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তা আরও গভীর হয়েছে। আজকাল ভুল তথ্য, গুজব ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। তাই ব্যক্তি পর্যায়েও দায়িত্বশীল আচরণ ও জবাবদিহিতা জরুরি। প্রত্যেক নাগরিক যদি নিজের কাজ ও বক্তব্য সম্পর্কে সচেতন হন, তাহলে সমাজে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা সহজ হবে।

পরিশেষে বলা যায়, জবাবদিহিতা ছাড়া প্রকৃত শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এটি ব্যক্তি ও সমাজকে সৎ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়পরায়ণ হতে শেখায়। যে সমাজে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়, সেখানে দুর্নীতি কমে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং মানুষ নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারে। তাই একটি উন্নত, সুশৃঙ্খল ও শান্তিময় সমাজ গঠনের জন্য আমাদের সবাইকে জবাবদিহিতার চর্চা করতে হবে।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *