গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় শিরোপার লড়াইয়ে নামছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ভারত। লক্ষ্য—নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে টানা তৃতীয় শিরোপা, অর্থাৎ হ্যাটট্রিক ট্রফি জয়ের ইতিহাস গড়া।
আরব সাগরের কোলঘেঁষা এই ভেন্যুতে ফাইনাল ঘিরে জমে উঠেছে উত্তেজনা। ডাগআউট থেকে মাঠ—সব জায়গাতেই থাকছে কৌশলগত লড়াই ও ২২ ফুটবলারের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা। মারিয়া মান্দা, মনিকা চাকমা ও ঋতুপর্ণা চাকমাদের সামনে সুযোগ বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন অধ্যায় লেখার।
অন্যদিকে ভারতও রয়েছে পূর্ণ আত্মবিশ্বাসে। এবারের আসরে এখন পর্যন্ত অপরাজিত দলটি সেমিফাইনালসহ কোনো ম্যাচেই গোল হজম করেনি। রক্ষণভাগে তাদের দৃঢ়তা এবং আক্রমণভাগের গতি বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
গ্রুপ পর্বে ভারতের কাছে ৩–০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে সেই হারকে পেছনে ফেলে ফাইনালে নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে দলটি। কোচ পিটার বাটলারও শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে দলীয় পারফরম্যান্সকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, ফাইনালে বড় বিষয় হলো ফলাফল। সবসময় সুন্দর ফুটবল নয়, পরিস্থিতি অনুযায়ী মানিয়ে নিয়ে লক্ষ্য অর্জন করাই আসল। তার মতে, দল হিসেবে খেলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ওপর নির্ভরশীল হওয়া নয়।
আক্রমণভাগে ভারতের ভরসা আভেকা সিং, যিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের একজন। অন্যদিকে বাংলাদেশের আক্রমণে এখনো এককভাবে বড় কোনো গোলস্কোরার না থাকলেও ভরসা ঋতুপর্ণা চাকমা। সেমিফাইনালে তার অসাধারণ গোল ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে।
তবে কোচের মতে, দলীয় প্রচেষ্টাই নির্ধারণ করবে ফলাফল। তিনি মনে করেন, কোনো একক খেলোয়াড় নয়, পুরো দল মিলেই জয়ের পথ তৈরি করতে হবে।
এবারের আসরে ভারতের শক্ত রক্ষণ এবং বাংলাদেশের মাঝে মাঝে অস্থির ডিফেন্স দুই দিকই ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গ্রুপ পর্বের হারকে পিছনে ফেলে নতুন ইতিহাস লেখার লক্ষ্যেই আজ মাঠে নামছে লাল-সবুজের মেয়েরা।