শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
শিক্ষিকাকে জুতা দিয়ে মারধরের অভিযোগ, বিএনপি নেতা দল থেকে বহিষ্কার এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিল করল সরকার জাতীয় সংকটে ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উত্তপ্ত কাঁচাবাজার নোটিশ ছাড়া উচ্ছেদ নয় : ভূমিহীনদের খাসজমি দেওয়ার আশ্বাস ভূমিমন্ত্রীর হরমুজে কৌশলগত ছাড় : মিত্র দেশগুলোর জন্য ফি বাতিল ইরানের রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর বিচার প্রক্রিয়া কচ্ছপগতিতে, হতাশ শ্রমিক পরিবার ধামরাইয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে গলা কেটে হত্যা মোরেলগঞ্জে ১৬ বছর ধরে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পুলিশ ফাঁড়ি, টিনের বেড়া দিয়ে চলে প্রাথমিকের পাঠদান নিঃসঙ্গতার ভারে নত – আনজুমান আরা শিল্পী ছবির মৃত্যু নেই, বেঁচে থাকে অনন্তকাল, ছবি মানে শুধু আনন্দ নয়, ছবির মানে হতে পারে বিড়ম্বনা – মিজানুর রহমান ধামরাইয়ে প্রতিদিন সান্ধ্যকালীন সবজির মেলা ইরানের শক্তির বার্তা তেহরানসহ একাধিক শহরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন ধ্বংসের মুখে মঠবাড়িয়া শেরে বাংলা সাধারণ পাঠাগার ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালনে পরিপত্র জারি রাজশাহীতে নিরাপত্তার আশ্বাসে মেডিকেলে কাজে ফিরলেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মাছের শরীরে বিষাক্ত ধাতু : উপকূলীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের উদ্বেগ দ্বিতীয় সন্তানের অপেক্ষায় পূজা বন্দ্যোপাধ্যায় সংরক্ষিত নারী আসনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন তাসনিম জারা নতুন অর্থবছরে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎসব ভাতা বৃদ্ধির উদ্যোগ
Notice :

মাঠ থেকে বাজার পর্যন্ত পটলের দামের মধ্যে লুকানো দীর্ঘ যাত্রার গল্প

বিশেষ প্রতিনিধি
ছবি: সঙগৃহীত

যশোরের বারীনগর পাইকারি সবজি মোকামে ভোরের আলো ফোটার আগেই শুরু হয় ব্যস্ততা। কৃষকেরা মাঠ থেকে তুলে আনা টাটকা পটল, লাউ, মুলা, বেগুন নিয়ে হাজির হন। দরদাম শেষে পটোল বিক্রি হয় মাত্র ৫৫–৫৬ টাকা কেজি দরে।

কিন্তু এই একই পটল কয়েক ঘণ্টা পরই ঢাকার বাজারে গিয়ে দাঁড়ায় ১০০ টাকারও বেশি। এই দামের ব্যবধান কেবল দূরত্বের নয় এটি এক দীর্ঘ, বহুস্তরীয় বাণিজ্যিক চক্রের ফল। কৃষকের হাত থেকে পণ্য ছাড়ার পরই শুরু হয় প্রথম রূপান্তর। মোকামের ব্যাপারীরা বড় পরিমাণে সবজি কিনে শ্রমিক দিয়ে ধোয়ান, বাছাই করেন, বস্তাবন্দী করেন। এরপর সেগুলো ট্রাকে তোলা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় পরিবহন, শ্রমিক, বস্তা, খাজনা সব মিলিয়ে প্রতি কেজিতে প্রায় ৮ টাকা খরচ যুক্ত হয়। ফলে কৃষকের ৫৬ টাকার পটল তখনই প্রায় ৬৪ টাকায় দাঁড়িয়ে যায়। এরপর শুরু হয় যাত্রা। যশোর থেকে ঢাকার প্রায় ১৭০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে গিয়ে ট্রাককে থামতে হয় একাধিক জায়গায়। মধুমতী সেতু, পদ্মা সেতু, মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, আড়িয়াল খাঁ সেতু—প্রতিটি স্থানে টোল দিতে হয়। এর বাইরে স্থানীয় পর্যায়ে পৌর টোল, অনানুষ্ঠানিক খরচসহ ছোট ছোট ব্যয় যুক্ত হতে থাকে। অঙ্কে ছোট মনে হলেও সব মিলিয়ে এগুলো পণ্যের দামে প্রভাব ফেলে।

ছবি: সংগৃহীত

রাতের দিকে ট্রাক যখন ঢাকার যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারে পৌঁছায় তখনও পটলের যাত্রা শেষ হয়নি। এখানে শুরু হয় নতুন ধাপ। শ্রমিকেরা ট্রাক থেকে সবজি নামিয়ে আড়তে নিয়ে যান। আড়তে প্রতি কেজিতে প্রায় ২ টাকা আড়তদারি খরচ যোগ হয়। সঙ্গে থাকে শ্রমিকের মজুরি, বাছাইয়ের সময় কিছু পণ্য নষ্ট হওয়ার ক্ষতি। এরপর একের পর এক হাতবদল ; আড়তদার থেকে ফড়িয়া, ফড়িয়া থেকে পাইকার, পাইকার থেকে খুচরা বিক্রেতা এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তার হাতে পৌঁছানো। প্রতিটি ধাপে ৮ থেকে ১০ টাকা করে দাম বাড়তে থাকে। ফলে ৫৬ টাকার পটোল ধাপে ধাপে ৮০, ৯০ পেরিয়ে সহজেই ১০০–১১০ টাকায় পৌঁছে যায়। তবে এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে শুধু মধ্যস্বত্বভোগীর সংখ্যা নয় আরও কিছু বাস্তবতা কাজ করে। কৃষকেরা অভিযোগ করেন, তারা ন্যায্যমূল্যে সার ও কীটনাশক পান না। উৎপাদন পর্যায়েই তাদের খরচ বেড়ে যায়।

এরপর যোগ হয় শ্রমিকের বাড়তি মজুরি, ডিজেলের উচ্চ মূল্য, প্যাকেজিং খরচ এবং কোথাও কোথাও অনিয়মিত চাঁদাবাজির অভিযোগ। সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এমন এক পরিস্থিতি যেখানে কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান না, আবার ভোক্তাকেও কিনতে হয় বেশি দামে। মাঝখানের প্রতিটি স্তর কিছু না কিছু লাভ ও খরচ যোগ করে আর সেই বোঝা গিয়ে পড়ে শেষ ক্রেতার ওপর। এই বাস্তবতায় সংশ্লিষ্টদের অনেকেই মনে করেন, সরাসরি কৃষক থেকে ভোক্তার কাছে পণ্য পৌঁছানোর ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে এই দামের ব্যবধান অনেকটাই কমানো সম্ভব। মধ্যস্বত্বভোগীর সংখ্যা কমানো এবং বাজার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এখন সময়ের দাবি।

যশোরের মাঠ থেকে ঢাকার রান্নাঘর এই যাত্রা তাই শুধু একটি সবজির নয় বরং দেশের কৃষি অর্থনীতি, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বাজার কাঠামোর একটি প্রতিচ্ছবি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *