শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
গাইবান্ধায় জ্বালানি সংকটে থমকে সেচ, শুকিয়ে যাচ্ছে মাঠ তানোরে কলেজের জমি দখল করে দোকান নির্মাণ, থানায় জিডি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষা শনিবার গাইবান্ধায় বহুল আলোচিত ‘ইচ্ছাপূরণের মেলা’ চীন থেকে এসে তরুণীকে বিয়ে কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ‘টাকা ছাপানো বন্ধ না হলে সংকট বাড়বে’ বিশেষজ্ঞদের কঠোর বার্তা সীমান্তে ১৫ বিজিবির বিশেষ অভিযান ভারতীয় মাদক ও শাড়ি-প্যান্ট জব্দ জ্বালানি তেলের ব্যয় বৃদ্ধি ভোক্তার ওপর প্রভাব ফেলবে না : বাণিজ্যমন্ত্রী পার্বত্য মন্ত্রীর আশ্বাসের ভিড়েও অন্ধকারে ‘অনাথ’ জনপদ ১২ দিন অসুস্থ রোগীকে কাঁধে নিয়ে পাহাড় পাড়ি দুর্গম সীমান্তে বাস্তবতার চিত্র বিশ্ববাজারে ফের কমলো স্বর্ণের দাম রাজশাহীতে পরিবেশ ও প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ৪ জুন নয়, এবার ২১ মে—জাতীয় চা দিবসের নতুন তারিখ ঘোষণা বাস ভাড়া বৃদ্ধিতে অস্থিরতা ঢাকার রাস্তায় ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি জাহাজ জব্দে উত্তপ্ত বিশ্ব রাজনীতি শরণখোলায় জমি নিয়ে বিরোধে হামলা: রক্তক্ষরণে হাসপাতালে বৃদ্ধের মৃত্যু কুড়িগ্রামে হত্যা মামলার আসামীকে মানিকগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করল র‍্যাব টিনশেডের ‘তপ্ত চুল্লি’ ক্লাসরুমে : ব্যাহত প্রাথমিক শিক্ষা রপ্তানি খাতে গতি আনতে আবারও চালু প্রি-শিপমেন্ট ঋণ সুবিধা শিক্ষিকাকে জুতা দিয়ে মারধরের অভিযোগ, বিএনপি নেতা দল থেকে বহিষ্কার এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিল করল সরকার
Notice :

অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে স্বাস্থ্য খাতের শত শত গাড়ি

কথাভিশন রিপোর্ট
ছবি: সংগৃহীত

 

স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় কেনা ৮৭৯টি সরকারি গাড়ি প্রায় দুই বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। প্রকল্প শেষ হয়ে যাওয়ার পর থেকে এসব গাড়ির অনেকগুলো গ্যারেজে বন্ধ রয়েছে। আবার কিছু গাড়ি খোলা জায়গায় পড়ে থেকে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহারের উদ্যোগ না থাকায় সরকারি এই সম্পদগুলো কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছে।

স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা এবং ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অধীন এসব গাড়ি দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমেও প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রমের তদারকিতে বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সাল থেকে অপারেশন প্ল্যান (ওপি) নামে একটি কর্মসূচির আওতায় মাঠপর্যায়ে ৩৮টি রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালিত হতো। এসব কর্মসূচির তদারকির সুবিধার্থে ধাপে ধাপে ৮৭৯টি গাড়ি কেনা হয়েছিল।

কিন্তু ২০২৪ সালের জুনে তৎকালীন সরকার এসব কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে দুই বছরের জন্য নতুন করে ওপি প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হলেও গত বছরের ৫ মার্চ অন্তর্বর্তী সরকার তা বাতিল করে দেয়। ফলে প্রকল্পের আওতায় থাকা যানবাহনগুলোও কার্যত ব্যবহারহীন হয়ে পড়ে।

তবে পরে কর্মসূচিগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় নতুন করে কয়েকটি রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এরই মধ্যে পাঁচটি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। কিন্তু গাড়িগুলোর ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় এসব গাড়ির অনেকগুলোর টায়ার, ব্যাটারি এবং ইঞ্জিন নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, গাড়ি না থাকায় মাঠপর্যায়ে তদারকি কার্যক্রমে বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

গত বছরের ১৫ জুন অর্থ মন্ত্রণালয় একটি চিঠির মাধ্যমে ওপি প্রকল্পের আওতায় কেনা সব গাড়ি সরকারি পরিবহন পুলে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ এখনও পর্যন্ত একটি গাড়িও সেখানে জমা দেয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, গাড়িগুলো পরিবহন পুলে গেলে অন্য দপ্তরে বরাদ্দ হয়ে যেতে পারে এবং স্বাস্থ্য বিভাগ স্থায়ীভাবে এই সম্পদ হারাতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য নানা ধরনের গাড়ি কেনা হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে টয়োটা র‍্যাভ ফোর, মিতসুবিশি এক্সপান্ডার ও আউটল্যান্ডার মডেলের গাড়ি। করোনাকালে গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা তদারকিতে এসব গাড়ি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

এ ছাড়া অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোবাস, জিপ এবং ওষুধ সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত কাভার্ডভ্যানও রয়েছে এই বহরে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে কেনা ৫৭৩টি যানবাহনের মধ্যে তিনটি জিপ, ১০টি মাইক্রোবাস, ৫০টি অ্যাম্বুলেন্স, ২০টি ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর জন্য ৪৯০টি যানবাহন রয়েছে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে। সেখানে ৪৯টি অডিও-ভিজ্যুয়াল ভ্যান, কয়েকটি জিপ ও মাইক্রোবাসসহ মোট ৩০৩টি গাড়ি বিভিন্ন ইউনিটে পড়ে আছে।

জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও ওষুধ সরবরাহের জন্য ব্যবহারের কথা থাকলেও ৪৩টি কাভার্ডভ্যানও কার্যত অচল হয়ে আছে। অথচ এসব গাড়ির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পণ্যাগার থেকে দেশের প্রায় পাঁচ শতাধিক উপজেলায় প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করার কথা ছিল।

এ ছাড়া ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ১৬টি গাড়িও দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

গাড়ির অভাবে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তদারকি কার্যক্রম এখন অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত ১২ এপ্রিল পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শংকর প্রসাদ অধিকারী মোটরসাইকেলে করে কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শনে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

অনেক কর্মকর্তাই জানিয়েছেন, গাড়ি না থাকায় এখন ব্যক্তিগত খরচে বা মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন করতে হচ্ছে।

বরিশালের এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, সপ্তাহে প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্র ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনে যেতে হয়। গাড়ির সুবিধা না থাকায় এসব কাজ করতে গিয়ে অতিরিক্ত ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

কিছু এলাকায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে কর্মকর্তারা গাড়ি সচল রাখার চেষ্টা করছেন। চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাফরিন জাহেদ জিতি জানান, স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখতে তিনি নিজ উদ্যোগে গাড়ির ব্যবস্থাপনা করছেন, যদিও এতে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন গাড়িগুলো অচল থাকায় দেশের টিকাদান কর্মসূচি ও সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, একটি গাড়ি শুধু পরিবহন নয়; এটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। দীর্ঘ সময় এসব যানবাহন অচল থাকলে মাঠপর্যায়ের তদারকি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর তার সরাসরি প্রভাব পড়ে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অপারেশন প্ল্যান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন কার্যক্রমে সাময়িক স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি কর্মসূচির অনুমোদন ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে এবং বাকিগুলো অনুমোদন পেলেই গাড়িগুলোর ব্যবহার নিয়েও সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, গাড়ির সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *