উপকূলীয় জনপদ খুলনার কয়রায় দারিদ্র্যজনিত কারণে বাল্যবিবাহ ও শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে ১০০ জন শিক্ষার্থীর পরিবারকে সুদবিহীন ঋণ সহায়তা প্রদান করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আমাল ফাউন্ডেশন’।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে সুন্দরবন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সভাকক্ষে এই সহায়তা কার্যক্রম ও প্রকল্প পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংস্থাটি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও প্রতিক্রিয়া প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পরিবারকে এই সহায়তার আওতায় আনে।
বক্তারা অনুষ্ঠানে বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে আর্থিক সংকটের কারণে অনেক পরিবার অল্প বয়সেই মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেন যা শিক্ষা থেকে শিশুদের বঞ্চিত করছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে শুধু সচেতনতা নয়, পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোও জরুরি। সেই লক্ষ্যেই এই সুদমুক্ত ঋণ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে যাতে পরিবারগুলো ছোট আয়ের সুযোগ তৈরি করে সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহীকের্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, বাল্যবিয়ে একটি সামাজিক ব্যাধি যা শিক্ষার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেয়েদের শিক্ষায় ধরে রাখতে পারলে এই সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে। এই ধরনের উদ্যোগ প্রান্তিক মানুষের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আমাল ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক সারাহ জাবীন কৃষ্টি এবং সঞ্চালনা করেন মোঃ আজিজুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কয়রা থানার ওসি মো. শাহ আলম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ এবং মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান।
সারাহ জাবীন কৃষ্টি জানান, মাঠ পর্যায়ের জরিপে দেখা গেছে অর্থনৈতিক দুরবস্থাই বাল্যবিয়ের অন্যতম প্রধান কারণ। তাই পরিবারগুলোর পাশে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিয়ে ঝরে পড়া রোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
স্থানীয় অভিভাবকরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এই ঋণ সহায়তা পরিবারগুলোকে আত্মনির্ভর হতে সাহায্য করবে এবং মেয়েদের অকাল বিয়ের প্রবণতা কমাবে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সবাই এই ধরনের মানবিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান।