বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটি আগামী মাসে ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য গেজেট প্রকাশের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আসন্ন বাজেট সামনে রেখে কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।
সংগঠনের আহ্বায়ক আবদুল মালেক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, আসন্ন বাজেটের মধ্যে ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত গেজেট প্রকাশের দাবি জানানো হবে। তারই অংশ হিসেবে, ৮ মে পটুয়াখালী, ৯ মে খুলনায় কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে ১৬ মে ঢাকা শহরের জাতীয় প্রেস ক্লাবে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সমাবেশ এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে যে, কর্মচারীদের জন্য গত ১১ বছরে দুটি পে স্কেল হবার কথা থাকলেও তারা একটি সঠিক পে স্কেলও পায়নি। বর্তমানে কর্মচারীরা আকাশচুম্বী দ্রব্যমূল্য এবং ঋণের বোঝা নিয়ে বিপর্যস্ত। বেশিরভাগ কর্মচারী ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়ে পড়েছে এবং মাসের শেষে হাতে আসা বেতনে তাদের জীবনযাত্রা চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, ঋণ কর্তন করে মাস শেষে যে বেতন হাতে পান, তাতে ১০-১৫ দিন চলতে পারেন না। পরবর্তীতে আরও বেশি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন।
তারা সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেছেন, যদি ঋণ করে কিছু চলে তবে কেন না কর্মচারীদের ভাগ্য উন্নয়নে আরও কিছুটা ঋণী হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে?
অন্যদিকে কর্মচারীরা দাবি করেছেন যে, আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সরকারের যথাযথ বরাদ্দ রাখা উচিত। তারা বলছেন, যদি পে স্কেল বাস্তবায়ন না করা হয় তবে সরকারের প্রতি কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ এবং ক্ষোভ বৃদ্ধি পাবে, যা সরকারের জন্য অশুভ হতে পারে।
তারা প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি কামনা করে বলেছেন, আসন্ন বাজেটে বরাদ্দ রেখে সরকার ২২ লাখ কর্মচারীর মুখে হাসি ফোটাবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে ২২ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের জন্য একটি বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংগঠনের নেতারা। কর্মচারীদের দাবি, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে এই কর্মীদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ আর তাদের ভাগ্য উন্নয়নে কিছুটা সহায়তা পেলে দেশের উন্নতির কাজ আরো দ্রুত এগিয়ে যাবে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি দাবির বাস্তবায়নের জন্য গণতান্ত্রিকভাবে এবং শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করার পরিকল্পনা করেছে। তারা আশা করছেন, সরকারের কাছে তাদের দাবির সঠিক মূল্যায়ন হবে এবং কর্মচারীদের উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।