রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটসংলগ্ন কলাবাগান এলাকা ও মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নে পদ্মা নদীর তলদেশ থেকে গভীর রাতে অবৈধভাবে কেটে বালু উত্তোলনের ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখের সামনেই একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট ড্রেজার এবং একাধিক বলগেট ব্যবহার করে রাতভর নদীর তলদেশ কেটে বিপুল পরিমাণ বালু তুলছে। নৌ-পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সাধারণ জনগণ।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কলাবাগান এলাকায় ‘হাসিবা হুমাইরা’ নামে একটি বলগেটের মালিক মহাজন রাজু এবং তেওতা ইউনিয়নে জাতীয় পাওয়ার গ্রীড সংলগ্ন এলাকায় ‘নবীজির দোয়া’ নামের একটি লোড ড্রেজার প্রতিরাতে নদীতে অবস্থান করছে। রাত ১০টার পর শুরু হয় বালু উত্তোলনের কার্যক্রম যা ভোর পর্যন্ত চলে। নদীর তলদেশ থেকে উত্তোলিত শত শত ঘনফুট বালু বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয় কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান অভিযান দেখা যাচ্ছে না।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, তেওতা ইউনিয়নের জাতীয় পাওয়ার গ্রীডের অতি সংলগ্ন এলাকায় এই অবৈধ খনন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এইভাবে চলতে থাকলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন, ভয়াবহ ভাঙন এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো বিপদে পড়তে পারে। এমনকি বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেজার চলাকালীন নদীতে ১০ থেকে ১৫ জন অস্ত্রধারী ব্যক্তি পাহারায় থাকে। প্রতিবাদ করলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
এক স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করে বলেন, রাত নামলেই পুরো নদীর এলাকা যেন অস্ত্রধারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। বৈধভাবে বালু উত্তোলন হলে দিনের আলোতেই কাজ করা যেত, রাতের অন্ধকারে কেন এই কার্যক্রম?
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের অচল ও রহস্যজনক ভূমিকা এই সিন্ডিকেটকে আরও বেপরোয়া করেছে। তারা রাজবাড়ী ও মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসন, শিবালয় উপজেলা প্রশাসন, নৌ-পুলিশ, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিদ্যুৎ বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছে।
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, যৌথ অভিযান চালিয়ে অবৈধ ড্রেজার ও বলগেট জব্দ, সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। এছাড়া জাতীয় পাওয়ার গ্রীড সংলগ্ন এলাকায় সব ধরনের অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করারও দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের হুঁশিয়ারি, যদি এখনই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হয় তাহলে নদীভাঙন, জাতীয় সম্পদের ক্ষতি বা বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সেই ক্ষেত্রে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের।