সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৫:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
শেহবাজ শরিফের ঘোষণা: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে জেনেভায় জমি বিক্রি নিয়ে বিরোধ, বাবাকে হত্যা করে জঙ্গলে ফেলে দেন ছেলে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল চ্যালেঞ্জ করে রিট বেনজীর প্রত্যর্পণে আইনি জটিলতা, সামনে কী পথ? আদ্-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ, তবে মেডিকেল কলেজ চালু থাকবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী দিল্লিতে প্রবেশে বাধা, সফর বাতিল করে দেশে ফিরলেন জাহেদ উর রহমান ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যু আলোচনার বাইরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় নতুন মোড় জ্যোতিষ বিশ্লেষণে ১৫ জুনের বিশ্বকাপ ম্যাচে সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেশ-জাতির স্বার্থে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছি : ডা. শফিকুর রোলেক্সের বিলাসবহুল ঘড়ি উপহার পেয়ে চমকে গেলেন শাকিব খান মে মাসে ৬৭৬ দুর্ঘটনা, নিহত ৬৭১: মে মাসে বিপর্যয়ের পরিসংখ্যান প্রকাশ দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম ১০ জুলাই মুক্তি পাচ্ছে জয়ার ‘অর্ধাঙ্গিনী’র সিক্যুয়াল বড় আকারেরও বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য: এফবিসিসিআই আর্জেন্টিনা–ব্রাজিল সমর্থকদের রঙিন র‍্যালিতে ফুটবল উন্মাদনায় কাঁপল নীলফামারী সাভারে পেশাদার ৩মাদক কারবারি গ্রেপ্তার শার্শা বিয়ের প্রলোভনে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক আটক মোরেলগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ মানববন্ধন মোরেলগঞ্জে ১০ লাখ নকল সিগারেটসহ চোরাই মালামাল ও যন্ত্রাংশ উদ্ধার ধামরাইয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
Notice :

বেনজীর প্রত্যর্পণে আইনি জটিলতা, সামনে কী পথ?

বিশেষ প্রতিনিধি
ছবি: সংগৃহীত

মানবতাবিরোধী অপরাধসহ একাধিক মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আইনজীবীদের কেউ কেউ বলছেন, আরব আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের যে চুক্তি সেটি দণ্ডিত বন্দি বিনিময় সংক্রান্ত। বেনজীর আহমেদ দণ্ডিত নন। আবার অনেক আইনজীবী বলছেন, বন্দি বিনিময় চুক্তির বাইরে দুই দেশের সমঝোতার মাধ্যমেও তাকে ফেরত আনা যাবে।

আবার দেশ থেকে পলাতক আসামিদের ফেরানোর ক্ষেত্রে আগের মিশ্র অভিজ্ঞতা রয়েছে বাংলাদেশের। যেমন আর্থিক খাতের আলোচিত কর্মকর্তা পি কে হালদার, সন্ত্রাসী জিসান আহমেদ এবং রবিউল ইসলামকে ভারত ও আরব আমিরাত থেকে ফেরানো যায়নি। আবার সাত খুন মামলার আসামি নুর হোসেন, রাজন হত্যা মামলার আসামি কামরুল, নরসিংদীর সাবেক চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ খান হত্যা মামলার আসামি আরিফ সরকার এবং টিপু-প্রীতি হত্যা মামলার আসামি সুমন শিকদার ওরফে মুসাকে বিদেশ থেকে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলার এক আসামিকেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত আনা হয়েছিল। বেনজীরের বিদেশে পলায়ন ১৯৮৮ সালে পুলিশে যোগ দেন বেনজীর আহমেদ। এ বাহিনীতে দীর্ঘ কর্মপরিসরের ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি পদে ছিলেন। এর আগে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এবং র‍্যাবের মহাপরিচালকেরও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

বেনজীর দায়িত্বে থাকা অবস্থায় বিরোধী নেতা-কর্মীদের দমন-পীড়নসহ র‌্যাবের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছিল। এজন্য ২০২১ সালে র‌্যাবের যে ছয় কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয় তাদের মধ্যে বেনজীরও ছিলেন।

ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি-অনিয়ম, মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠলে ২০২৪ সালের ৪ মে গোপনে সপরিবারে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। সেই থেকে পলাতক রয়েছেন। এর মধ্যে তার বিরুদ্ধে পাসপোর্ট জালিয়াতি, দুর্নীতি, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিভিন্ন মামলা হয়।

এর ধারাবাহিকতায় তাকে গ্রেপ্তারে জারি করা হয় ইন্টারপোলের রেড নোটিশ। সেই নোটিশ জারির দীর্ঘদিন পর রোববার তাকে আরব আমিরাতের দুবাইতে গ্রেপ্তারের খবর আসে।

গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের কিছুক্ষণ পর সংসদেও এ বিষয়ে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ৩০ দিনের মধ্যে পাঠাতে হবে প্রত্যর্পণের অনুরোধ সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ শুরু করে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ এপ্রিল ২০২৫ ইন্টারপোল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে।

গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল পুলিশ (এনসিবি আবুধাবি) একটি ইমেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে নিশ্চিত করেছে যে, বেনজীর আহমেদকে সে দেশের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং তিনি বর্তমানে সেখানে আটক আছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে জানান, ইউএই ফেডারেল ল-এর ৩৯ (২০০৬) ধারা অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ বা এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট পাঠাতে হবে। বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা ও ১৯৭৩ সালের বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডারের বিভিন্ন ধারায় মামলা রয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, এনসিবি ঢাকা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করছে। শিগগিরই কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারকে আইনের শাসনের মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে পারছি। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন—এই বার্তাটি আমরা জাতিকে দিতে চাই।

বিবৃতি চলাকালে সংসদে উপস্থিত সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে এই সংবাদকে স্বাগত জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর সংসদ কক্ষজুড়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও এ সময় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

যা বলছেন চিফ প্রসিকিউটর বেনজীর আহমেদকে ফেরানোর বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের বন্দি বিনিময় চুক্তি থাকলে সেই চুক্তির আওতায় কোনো বন্দিকে আমাদের দেশে ফিরিয়ে আনার সুযোগ থাকে। তবে কূটনৈতিক চ্যানেলেও যে কোনো বন্দিকে ফিরিয়ে আনার আইনগত সুযোগ আছে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে অপরাধ সম্পর্কিত বিষয়ে পারস্পরিক সহায়তা আইন, ২০১২ নামে একটা আইন আছে। মামলা-সংক্রান্ত যে কোনো বিষয়ে অন্য কোনো দেশ সহায়তা চাইলে আমরা সেই আইনের আওতায় সহায়তা করি। অন্য কোনো দেশে যদি আমাদের কোনো আসামি থাকে এই আইনের আওতায় সেই দেশের কাছে সহায়তা চাওয়া যেতে পারে। যেহেতু সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের সুসম্পর্ক আছে এবং আমাদের এখানকার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি যে, বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক চ্যানেলে ওই দেশের সরকারের কাছে আবেদন জানাবে তাকে বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার জন্য। তারা বেনজীরকে আমাদের দেশের সরকারের কাছে তুলে দেবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতেও সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশকে বন্দি সমর্পণ করতে পারে।

ইন্টারপোলের সঙ্গে বসতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে দুদকের আইনজীবী মো. মাহমুদুল আরেফিন স্বপন এ বিষয়ে বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে দণ্ডিত বন্দিদের প্রত্যার্পণের বিষয়ে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বেনজীর তো দণ্ডিত নন এখন প্রশ্ন তাহলে কী হবে? এটা আলাপ-আলোচনার বিষয়। এই চুক্তি কার্যকর তখনই হতো যদি বেনজীর আহমেদ দণ্ডিত হতেন।

আমার ব্যক্তিগত অভিমত, যেহেতু ইন্টারপোলের সহযোগিতায় গ্রেপ্তার হয়েছে, এখন ইন্টারপোলের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারকে বসতে হবে। দুই রাষ্ট্রের মধ্যে আবার কোনো চুক্তি হতে পারে কিংবা ইন্টারপোলের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে সমাধানে আসতে পারে। এছাড়া তাকে এই মুহূর্তে এই চুক্তি অনুসারে ফেরত আনা যাবে না কারণ তিনি দণ্ডিত হননি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *