অভিজ্ঞতা ও আধুনিকতার অনন্য সমন্বয়, ৬০ বছর বয়সে দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হলেন তারেক রহমান
কথাভিশন রিপোর্ট
Update Time :
মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
/
৫৪
Time View
/
Share
বাংলাদেশের ১১ তম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা ঘটেছে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন এবং রাজনৈতিক সংগ্রামের পর তারেক রহমান ৬০ বছর বয়সে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। এটি তাকে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেল দেশ। তিনি দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হলেন। এদিকে তারেক রহমান এবং তার পরিবারের ঝুলিতে যুক্ত হলো নতুন রেকর্ড। বিশ্বে অল্প কয়েকটি রাজনৈতিক পরিবার আছে, যাদের তিন সদস্য কোনো দেশের রাষ্ট্র কিংবা সরকারপ্রধানের গুরুদায়িত্ব সামলেছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে তারেক রহমানের শপথের মধ্য দিয়ে এই পরিবারগুলোর তালিকায় নাম লেখালো জিয়া পরিবারও। বাবা জিয়াউর রহমান ও মা খালেদা জিয়ার পর এবার দেশ পরিচালনার ভার নিয়েছেন ছেলে তারেক রহমান। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বয়সের ভার নয় বরং তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আধুনিক চিন্তাধারা এবং উদ্ভাবনী ক্ষমতা তাকে তরুণ প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় ‘পুরুষ প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে অভিষিক্ত হতে চলেছেন (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পর সংসদীয় পদ্ধতিতে পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারী হিসেবে)। সাধারণত বাংলাদেশের সরকার প্রধানরা পঞ্চাশের কোঠায় বা তার আগেই ক্ষমতায় আসতেন। তারেক রহমানের ৬০ বছর বয়সে ক্ষমতায় আসা এক ধরনের পরিণত রাজনৈতিক প্রজ্ঞার উদাহরণ যেখানে বয়সের সঙ্গে প্রবীণত্ব এবং তরুণ উদ্ভাবনের এক অপূর্ব সমন্বয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রবাসে কাটানো দীর্ঘ সময়ে তিনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তৃণমূলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, তারেক রহমান বয়সে প্রবীণ হলেও তার কর্মস্পৃহা ও চিন্তাধারায় তরুণদের থেকেও অনেক বেশি উদ্যমী। তিনি কেবল একজন নেতা নন তিনি দলের জন্য এক আধুনিক দর্শনের নাম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, তারেক রহমানের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার স্মার্ট স্টেটসম্যান ইমেজ, যেখানে রাষ্ট্র পরিচালনায় তরুণ উদ্ভাবনী শক্তি ও প্রবীণের অভিজ্ঞতার এক অনন্য সমন্বয় ঘটেছে। কৃষক, শিক্ষার্থী এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য উদ্ভাবনী পরিকল্পনা, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশকে আধুনিক ও সুশাসিত রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করতে যাচ্ছেন। নির্বাচনের আগে তার বিরামহীন প্রচারণা দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় তিনি সরাসরি জনসভা করেছেন। প্রতিটি সভায় উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা শুনে তা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই প্রচারণাকে ‘তারেক বসন্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন কারণ প্রতিটি সভায় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ রাজনীতির মাঠে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। তারেক রহমান নির্বাচনের পর প্রতিপক্ষের প্রতি সংযম ও সৌহার্দ্য দেখিয়েছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন যে নির্বাচনের মাঠে ভুল-বোঝাবুঝি বা বিরোধ যেন প্রতিশোধের রাজনীতিতে রূপ না নেয়। এছাড়াও বিএনপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশ এসেছে যে সংসদ সদস্যরা ডিউটি ফ্রি গাড়ি বা সরকারি প্লট গ্রহণ করবেন না। শপথ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকার সৌহার্দ্যপূর্ণ, আধুনিক ও জনমুখী রাজনীতির নতুন অধ্যায় শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমান কেবল বাংলাদেশের দ্বিতীয় পুরুষ প্রধানমন্ত্রী বা সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখাচ্ছেন না বরং নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির অগ্রদূত হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছেন। প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে সৌহার্দ্য ও সহনশীলতার বীজ বপন করে তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করছেন। তার নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য হলো পরিমিতি, দূরদর্শিতা এবং প্রযুক্তি-নির্ভর পরিকল্পনা, যা তাকে দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে একটি ‘স্মার্ট ও আধুনিক নেতা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বিশ্লেষকরা আশা করছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধশালী এবং সমানাধিকারের রাষ্ট্রে পরিণত হবে।