ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার বিষয়ে যে মন্তব্য করেছেন তা নিয়ে বাংলাদেশ গুরুত্ব দিচ্ছে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মঙ্গলবার সচিবালয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, কোরবানির পশুরহাটের নিরাপত্তা এবং সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের জানান, দেশের স্বার্থ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, দুই দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। কোনো অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনের ফলাফলের কারণে আমরা আমাদের নীতি পরিবর্তন করি না। কাঁটাতারের বেড়া দিতে চাইলে সেটা কেবল কেন্দ্রীয় সরকারের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, এই মুহূর্তে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বার্তা আসেনি। তিনি বলেন, অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনের পরে কোনো বক্তব্য এসেছে, তার প্রতিক্রিয়া আমরা কেবল ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের মাধ্যমে জানব। আমাদের মূল দায়িত্ব সীমান্তে নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের ‘পুশইন’ বা অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ এড়ানো। বিজিবি এই বিষয়ে সতর্ক থাকবে।
ঈদুল আজহা সামনে রেখে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। রাজধানীসহ সারাদেশের কোরবানির পশুরহাটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ২৬টি পশুর হাট বসবে, যার মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৫টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১১টি হাট রয়েছে। প্রতিটি হাটে আনসার সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সিসিটিভি নজরদারি, মোবাইল টহল এবং গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, চাঁদাবাজি, অতিরিক্ত ইজারা আদায় বা হয়রানির বিষয়ে সরকারের কাছে তথ্য থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণ অভিযোগ জানাতে পারেন হটলাইন ১৬৬১৩-এ। ঈদ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটর করার জন্য পুলিশ সদর দফতরে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। ঈদের সাত দিন আগে এবং সাত দিন পরে এই সেল কার্যক্রম চালাবে। এছাড়া মহাসড়ক, লঞ্চঘাট, রেলস্টেশন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতেও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, সীমান্তে নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানোই তার প্রধান দায়িত্ব। কাঁটাতারের বেড়া বা অন্যান্য সীমান্ত সংক্রান্ত যেকোনো পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে। দেশের মানুষের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং সীমানা অক্ষুণ্ণ রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য।