খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের আল আমিন সরদারের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী রাবেয়া খাতুনের দায়ের করা গুম মামলা নিয়ে এলাকায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ করা হচ্ছে, এই মামলা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। রবিবার (১০ মে) সকালে কয়রা উপজেলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ অভিযোগ তুলে ধরেন ৩নং কয়রা গ্রামের ইব্রাহিম গাজীর পুত্র মো. বিল্লাল হোসেন গাজী।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে জানান, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের আল আমিন দীর্ঘদিন সুন্দরবনকেন্দ্রিক দস্যুতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এক সময়ে আত্মসমর্পণের পরও তিনি পুনরায় দস্যুতা শুরু করেন। সুন্দরবনে বনদস্যুতার সময় তিনি স্থানীয় জেলে ও বাওয়ালীদের নানা নির্যাতনের শিকার করেন যার ফলে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেন।
বিল্লাল হোসেন গাজী বলেন, গত ১৬ এপ্রিল তার স্ত্রী রাবেয়া খাতুন একটি গুম মামলা দায়ের করেন। যেখানে আমাকে সহ সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। আল আমিন কোথায় আছেন তা আমরা জানি না। পরিকল্পিতভাবে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এতে আমরা সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছি এবং হয়রানির শিকার হচ্ছি। মামলায় মনগড়া তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাই।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত কয়েকজন সাক্ষীও এ মামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। তাদের মধ্যে ৪নং সাক্ষী সাইফুল শেখ এবং ৫নং সাক্ষী জন্মজয় অভিযোগ করেন, তারা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।
এছাড়া সুন্দরবনে মাছ ধরার সময় আল আমিন হান্নান নামের এক জেলেকে অপহরণ করে চাঁদা দাবি করেছিলেন, যা না মেলায় তাকে গুলি করে আহত করা হয়। পরে কোস্টগার্ডের সহায়তায় তিনি বাড়ি ফেরেন। এই ঘটনায় একটি মামলা বর্তমানে চলমান রয়েছে।
কয়রা সদর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শেখ সোহরাব হোসেন বলেন, বিল্লাল হোসেন গাজীসহ অন্যান্য আসামিরা নিরীহ মানুষ। তাদেরকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মামলা করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতরা উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আল আমিন সুন্দরবনে ফের দস্যু কর্মকাণ্ড শুরু করেন। কয়েক মাস আগে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হলেও জামিনে মুক্তি পান। পরে তিনি ‘আল আমিন বাহিনী’ নামে একটি দল গঠন করে বনজীবীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় শুরু করেন। এক মাস আগে তার মরদেহ নদীতে ভাসতে দেখা গেছে বলে গুঞ্জন আছে। তবে পুলিশ ও পরিবারের খোঁজাখুঁজির পরও কোনো মরদেহ উদ্ধার হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মিথ্যা মামলার বিষয়ে প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়।