জ্বালানি ও কৃষি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, সরকারকে ডিমান্ড ম্যানেজমেন্টে স্বচ্ছ হতে হবে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কমপক্ষে ৬০ থেকে ৯০ দিনের বাফার স্টক (মজুত) গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সোলার এনার্জি বা অল্টারনেট জেনারেশনের দিকে নজর দিতে হবে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানি সংকটের প্রভাব: উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে এগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ।
তিনি এ সময় বলেন, তেল আছে শুধু সংসদে। সংসদে মন্ত্রী-এমপিদের কথা শুনলে মনে হয় দেশ তেলের ওপর ভাসছে অথচ সাধারণ মানুষ লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছে না।
সংসদে আলোচনা ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। জনগণের করের প্রতিটি টাকার হিসাব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এখনো সংসদ থেকে জনগণের জন্য কাঙ্ক্ষিত সেবা বা ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না।
দেশের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বর্তমান অর্থনীতি ও প্রশাসন অনেক ক্ষেত্রে ‘গোঁজামিল’ ও ‘টপ-ড্রেসিং’-এর মাধ্যমে চলছে। ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন জায়গায় বাস্তবতা আড়াল করে কাগজে লাভ দেখানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দলীয় বা অন্যান্য পরিচয়ের বদলে যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নিশ্চিত করা উচিত।
জ্বালানি সংকটকে কৃষির জন্য বড় হুমকি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেচ ব্যবস্থায় জ্বালানির ঘাটতির কারণে বোরো ধানসহ কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে এ কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি খাদ্য নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অনিয়ম বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চলতে থাকলে তারা জনগণের শক্তি নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। আমরা আল্লাহর দেওয়া শক্তি দিয়ে সে পথে বাধা হয়ে দাঁড়াব ইনশাআল্লাহ।
এগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের সভাপতি প্রফেসর এটিএম মাহবুব ই ইলাহীর সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। প্রবন্ধে জানানো হয়, দেশের মোট জ্বালানির ১৮ শতাংশ কৃষি খাতে ব্যবহৃত হয় এবং বর্তমান সংকটে বোরো চাষে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।