পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানের আকস্মিক পদত্যাগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার তিনি প্রধানমন্ত্রী বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি পদত্যাগপত্রে শারীরিক অসুস্থতাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে এই পদত্যাগ ঘিরে রাঙামাটিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দলের একটি অংশ দাবি করেছে, মন্ত্রণালয়ের ভেতরে থাকা দুর্নীতির সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারায় তিনি পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। এ অভিযোগ তুলে বিকেলে জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন কয়েকশ নেতাকর্মী। তাদের দাবি, মন্ত্রী সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন এবং তাকে ষড়যন্ত্র করে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।
অন্যদিকে মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র দাবি করেছে, অসুস্থতা কোনো কারণ নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে থাকা প্রশাসনিক ও অভ্যন্তরীণ চাপ এবং দুর্নীতির একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারার কারণেই তিনি পদত্যাগ করেছেন। সূত্রটি আরও দাবি করে, তিনি বারবার উদ্যোগ নিলেও বাধার মুখে সফল হতে পারেননি।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধ এবং দলের ভেতরের কোন্দলও পদত্যাগের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। রাঙামাটি জেলা পরিষদ পুনর্গঠন নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা এবং বিভিন্ন পক্ষের চাপ তাকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছিল বলে তারা মনে করেন।
এদিকে দলের আরেক পক্ষ ও স্থানীয় কিছু নেতা দাবি করেছেন, এটি সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র এবং দলের ভেতরের কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন বলেন, তিনি গণমাধ্যমে বিষয়টি জেনেছেন এবং পদত্যাগের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না।
এদিকে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য নিয়েও আলোচনা রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন হাঁটুর ব্যথায় ভুগছিলেন এবং চিকিৎসাও নিয়েছেন। তবে পদত্যাগের সঙ্গে স্বাস্থ্যগত কারণের সম্পর্ক রয়েছে কি না তা স্পষ্ট নয়।
পদত্যাগের পরপরই রাঙামাটিসহ পার্বত্য এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতাকর্মীরা তার পদত্যাগ প্রত্যাহারের দাবিতে অবরোধ ও সমাবেশ করেন। তারা অভিযোগ করেন, মন্ত্রীকে পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং পুনর্বহালের দাবি জানান।