২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রাজধানীর রমনা বটমূল-এ ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে সংঘটিত ভয়াবহ বোমা হামলার হত্যা মামলায় হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় এখনো প্রকাশিত হয়নি। রায় প্রকাশের পরই আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে যাওয়ার প্রস্তুতি নেবে বলে জানা গেছে।
২০২৫ সালের ১৩ মে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরিন আক্তারের বেঞ্চ মামলার রায় ঘোষণা করে বিচারিক আদালতের কিছু দণ্ড কমিয়ে ও কিছু দণ্ড বহাল রেখে সিদ্ধান্ত দেয়। রায়ে কয়েকজন আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন এবং কারও সাজা ১০ বছর করা হয়।
এই মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হরকাতুল জিহাদ (হুজি)-এর সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিচারিক আদালতে দেওয়া রায়ে মোট ১৪ জন আসামির মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড ও কয়েকজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছিল।
তবে পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টের রায়ে কিছু সাজা হ্রাস ও পুনর্বিন্যাস করা হয়। একই সঙ্গে কয়েকজন আসামি মৃত্যুবরণ করায় বা অন্য মামলায় দণ্ড কার্যকর হওয়ায় তাদের বিচারিক প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ উভয়ই এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের ঘোষণা দিয়েছে। তবে আপিল শুনানি শুরুর আগে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হওয়া বাধ্যতামূলক হওয়ায় বর্তমানে সেটির অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
মামলার ইতিহাস অনুযায়ী, ২০০৮ সালে সিআইডি তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং ২০১৪ সালে বিচারিক আদালত রায় ঘোষণা করে। এরপর ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির মাধ্যমে মামলাটি হাইকোর্টে আসে।
আইনজীবীদের মতে, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পরই মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তির দিকে অগ্রগতি হবে, যা পরে যাবে দেশের সর্বোচ্চ আদালত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর আপিল বিভাগে।
এ ঘটনায় ১০ জন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছিলেন যা দেশের নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ হামলা হিসেবে বিবেচিত।