ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে সংসদীয় রীতি, কার্যপ্রণালী ও প্রটোকল অনুসরণে নানা ধরনের অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন ও অনভিজ্ঞ সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণের কারণে অধিবেশনের শৃঙ্খলা মাঝে মাঝে বিঘ্নিত হচ্ছে বলে পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
অধিবেশন চলাকালে একাধিকবার দেখা গেছে, কিছু সদস্য কার্যপ্রণালী বিধির বাইরে গিয়ে অন্য প্রসঙ্গ উত্থাপন করছেন। আবার নির্ধারিত সময়ের বাইরে ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ তোলার চেষ্টা কিংবা চলমান আলোচনার মধ্যে হস্তক্ষেপের ঘটনাও ঘটছে।
এসব পরিস্থিতিতে স্পিকারকে বারবার হস্তক্ষেপ করে সংসদীয় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হচ্ছে।
অধিবেশন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা স্পিকার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) একাধিকবার সদস্যদের নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সংসদে লিখিত বক্তব্য সরাসরি পড়ে শোনানো নিরুৎসাহিত করা হয়।
তার মতে, সংসদীয় চর্চায় সদস্যদের উচিত নিজের ভাষায় বক্তব্য উপস্থাপন করা এবং কাগজে চোখ না রেখে হাউসের দিকে তাকিয়ে কথা বলা।
সংসদে সম্বোধন নিয়েও কিছু বিভ্রান্তি দেখা যাচ্ছে। আইন পেশা থেকে আসা কিছু সদস্য স্পিকারকে ‘মাই লর্ড’ বলে সম্বোধন করছেন যা সংসদীয় রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নিয়ম অনুযায়ী ‘মাননীয় স্পিকার’ বা ‘মিস্টার স্পিকার’ ব্যবহার করাই সঠিক।
এছাড়া মোবাইল ফোন ব্যবহার, দর্শক গ্যালারির সঙ্গে যোগাযোগ এবং অপ্রয়োজনীয় চলাচলের মতো আচরণও লক্ষ্য করা গেছে যা সংসদীয় শিষ্টাচারের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।
স্পিকার আরও জানিয়েছেন, গ্যালারির দিকে ইঙ্গিত করে বক্তব্য দেওয়া, স্পিকারের আসনের সামনে দিয়ে অপ্রয়োজনে চলাচল করা কিংবা অননুমোদিতভাবে হস্তক্ষেপ করা গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি সদস্যদের ‘রুলস অব প্রসিডিউর’ ভালোভাবে অধ্যয়ন করার আহ্বান জানান এবং পয়েন্ট অব অর্ডার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত সময় ও বিধি অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংসদের একটি বড় অংশ নতুন সদস্য হওয়ায় সংসদীয় অভিজ্ঞতার ঘাটতি স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। ফলে রীতি-নীতি ও প্রটোকল মানার ক্ষেত্রে ভুল-ত্রুটি ঘটছে।
অতীতে অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যরা নতুনদের অনানুষ্ঠানিকভাবে দিকনির্দেশনা দিতেন যা সংসদীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করত। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই অভিজ্ঞতার ঘাটতিও প্রভাব ফেলছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন সদস্যরা অভিজ্ঞ হয়ে উঠবেন এবং সংসদীয় রীতি-নীতি সম্পর্কে আরও সচেতন হবেন। যথাযথ প্রশিক্ষণ ও অভ্যাসের মাধ্যমে সংসদ আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ ও কার্যকর হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।