দেশের সব উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য ধাপে ধাপে ‘মিড ডে মিল’ বা স্কুল ফিডিং চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার জাতীয় সংসদে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ঘোষণা দেন। সে সেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সব উপজেলায় পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে যা শিক্ষার্থীদের পুষ্টিচাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারের অংশ হিসেবে শিক্ষার মান বৃদ্ধি ও প্রযুক্তির সমন্বয় নিশ্চিত করতে দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে দেড় হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সংযোগ প্রদান এবং প্রতিটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের জন্য অনন্য ‘এডু-আইডি’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি জানান, দেশের সব উপজেলায় ধাপে ধাপে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন এবং প্রতিটি জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট চালুর পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন। এছাড়াও কারিগরি শিক্ষার আধুনিকীকরণের পাশাপাশি মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হবে।
আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২,৩৩৬টি কারিগরি এবং ৮,২৩২টি মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ফ্রি ওয়াই-ফাই’ চালু করা হবে। মাদরাসা শিক্ষাকে আধুনিক করে তোলার জন্য স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী আইসিটি শিক্ষার প্রসারেও পদক্ষেপের কথা জানান। আইসিটি বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল আগামী ছয় মাসের মধ্যে শিক্ষার্থীদের অ্যাগ্রিকালচার ইনটেলিজেন্স, সাইবার সিকিউরিটি, মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট ও ডিজাইন (ফ্লাটার ব্যবহার করে), পাইথন প্রোগ্রামিং এবং ওয়েব-ভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
এই সকল পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করতে চায়, পাশাপাশি দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, দক্ষতা এবং আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি করবে, যা দেশের সামগ্রিক শিক্ষার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।