পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটি শেষ হচ্ছে রোববার। দীর্ঘ ছুটি শেষে সোমবার (১ জুন) থেকে খুলছে সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান এবং শেয়ারবাজার। একই সঙ্গে রাজধানীসহ সারা দেশে কর্মচাঞ্চল্য ফিরতে শুরু করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৫ মে থেকে শুরু হওয়া সরকারি ছুটি ৩১ মে পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এ সময় সরকারি অফিসের পাশাপাশি দেশের ব্যাংক, বিমা কোম্পানি ও শেয়ারবাজারের সব কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
সোমবার থেকে সব প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিক নিয়মে কার্যক্রম শুরু করবে।
প্রথমে ঈদ উপলক্ষে ছয় দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হলেও ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকার নির্বাহী আদেশে আরও একদিন ছুটি বাড়ায়।
ফলে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা সাত দিনের ছুটি ভোগের সুযোগ পান। একই সুবিধা পান ব্যাংক, বিমা ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও।
তবে অতিরিক্ত ছুটির সমন্বয় করতে ২৩ মে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও অফিস খোলা রাখা হয়েছিল।
ঈদের ছুটির কারণে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের লেনদেন বন্ধ ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের ছুটির সূচি অনুযায়ী সোমবার থেকে আবার স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হবে।
এতে আমদানি-রপ্তানি, ব্যবসায়িক লেনদেন, চেক নিষ্পত্তি এবং অন্যান্য আর্থিক কার্যক্রমও পূর্ণমাত্রায় সচল হবে।
ব্যাংকের পাশাপাশি দেশের জীবন ও সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলোর কার্যক্রমও সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে।
ছুটির কারণে স্থগিত থাকা গ্রাহকসেবা, প্রিমিয়াম গ্রহণ, দাবি নিষ্পত্তি ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে।
ঈদের ছুটিতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ ছিল। ছুটি শেষে সোমবার থেকে শেয়ারবাজারে স্বাভাবিক লেনদেন শুরু হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত লেনদেন চলবে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দীর্ঘ ছুটির পর বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং বাজারে নতুন গতি ফিরে আসবে।
ছুটির শেষ দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রাজধানী ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ। বাস, ট্রেন ও লঞ্চে যাত্রীচাপ ধীরে ধীরে বাড়ছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের ধারণা, রবিবার রাত এবং সোমবার সকাল থেকে রাজধানীতে মানুষের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।
যদিও অধিকাংশ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল, তবে জরুরি পরিষেবা খাতগুলো ছুটির আওতার বাইরে ছিল।
বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন, ইন্টারনেট ও ডাকসেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু ছিল। এছাড়া হাসপাতাল, জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং ওষুধ পরিবহন কার্যক্রমও অব্যাহত ছিল।
টানা সাত দিনের দীর্ঘ ছুটি শেষে সোমবার থেকে আবারও পুরোদমে শুরু হচ্ছে প্রশাসনিক, আর্থিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম। ঈদের আমেজ কাটিয়ে নতুন কর্মসপ্তাহে দেশের অর্থনীতি ও সেবাখাত আবারও স্বাভাবিক গতিতে ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।