রাজধানী ঢাকায় জ্বালানি তেল বিতরণ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা আনতে নতুন এক ডিজিটাল উদ্যোগ চালু করেছে সরকার। জ্বালানি সংকট, দীর্ঘ সারি এবং অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে রোববার (১২ এপ্রিল) থেকে শহরের সাতটি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য ‘ফুয়েল পাশ’ নামে কিউআর কোডভিত্তিক একটি মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এর তত্ত্বাবধানে চালু হওয়া এই ব্যবস্থা জ্বালানি বিতরণে এক নতুন যুগের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ উদ্যোগের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা পাম্পগুলোতে অস্বাভাবিক ভিড় এবং একই ব্যক্তি বা যানবাহনের মাধ্যমে বারবার জ্বালানি সংগ্রহ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা। প্রচলিত ম্যানুয়াল ব্যবস্থায় এসব নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছিল। ফলে সরকার ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি নিয়ন্ত্রিত ও তথ্যনির্ভর পদ্ধতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
‘ফুয়েল পাশ’ অ্যাপটি সরাসরি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর কেন্দ্রীয় ডেটাবেজের সঙ্গে যুক্ত থাকায় প্রতিটি যানবাহনের তথ্য যাচাই করে নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে তেজগাঁও, আসাদগেট, মহাখালী, শাহবাগ, নিকুঞ্জ ও কল্যাণপুর এলাকার সাতটি ফিলিং স্টেশনে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এসব স্টেশনে এখন মোটরসাইকেল চালকদের কিউআর কোড স্ক্যান ছাড়া জ্বালানি নেওয়া সম্ভব নয়। ব্যবহারকারীরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করে নিজস্ব কিউআর কোড সংগ্রহ করছেন। তবে যাদের স্মার্টফোন নেই তাদের জন্যও বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে ওয়েবসাইট থেকে নিবন্ধন করে কোড প্রিন্ট করে ব্যবহার করা যাবে।
এই নতুন ব্যবস্থায় গ্রাহকরা শুধু তেলই পাচ্ছেন না বরং তাদের জন্য নির্ধারিত বরাদ্দের পরিমাণও জানতে পারছেন। একইসঙ্গে পাম্প মালিকরাও ডিজিটাল এন্ট্রির মাধ্যমে প্রতিটি লেনদেন রেকর্ড করতে পারছেন। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি হয়ে উঠছে আরও স্বচ্ছ, নিয়ন্ত্রিত এবং জবাবদিহিমূলক। কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বিতরণের অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে যা সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে তা সারাদেশে বিস্তৃত করা যেতে পারে। এতে শুধু জ্বালানি অপচয় ও অনিয়ম কমবে না বরং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় একটি আধুনিক ও টেকসই কাঠামো গড়ে উঠবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এ ধরনের উদ্যোগ জ্বালানি খাতেও প্রযুক্তিনির্ভর সুশাসনের পথ সুগম করছে।
সব মিলিয়ে ‘ফুয়েল পাশ’ কেবল একটি অ্যাপ নয়; এটি একটি পরিবর্তনের সূচনা যেখানে প্রযুক্তি ব্যবহার করে সীমিত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। বর্তমান সংকটময় সময়ে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয় সেটিই এখন দেখার বিষয়।