নির্বাচন, ক্ষমতায় আসলে সরকারের রূপরেখা, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক, গুম-খুনের বিচারসহ বিভিন্ন বিষয়ে সম্প্রতি ডয়চে ভেলেকে একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে সরকার গঠনে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদী। ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফেরার পর ব্যক্তিগত দুর্যোগ ও নির্বাচনি প্রস্তুতির মধ্যে ভারসাম্য রাখাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মায়ের মৃত্যু ও নির্বাচনি ব্যস্ততা তাকে একই সঙ্গে সামলাতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা আশা করছি নির্বাচনটা সুষ্ঠু হবে। মানুষও তাই প্রত্যাশা করে।
ইশতেহারে তরুণ, নারী, প্রবীণসহ সব শ্রেণির মানুষের জন্য সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা রাখা হয়েছে বলে জানান তারেক রহমান। দেশের ৪০ লাখ প্রতিবন্ধী মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করে বিশেষ কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
নারীদের ক্ষমতায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সময় প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা বিনামূল্যে করার উদ্যোগ ছিল নারীর ক্ষমতায়নের বড় পদক্ষেপ। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এই সুবিধা আরও উচ্চশিক্ষা স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত করা হবে।
এ ছাড়া প্রতিটি গৃহহীনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা এবং বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে নারীদের স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
ভারতসহ প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো চুক্তি হলে দূরত্ব তৈরি হবে। তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশের মানুষের প্রতিনিধি। তাই মানুষের স্বার্থই সবার আগে।
ঐক্য বা সবাইকে নিয়ে সরকার গঠনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি এককভাবেই সরকার গঠন করবে। কারণ একটি ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্রের জন্য শক্তিশালী বিরোধী দলের উপস্থিতি জরুরি।
গত ১৫-১৬ বছরে রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষের গুম-খুনের বিচার নিশ্চিত করা বিএনপির অন্যতম অঙ্গীকার বলে জানান তিনি। আইন অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিক ন্যায়বিচারের অধিকারী এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারও গুম বা খুন বিচারবহির্ভূতভাবে অমীমাংসিত থাকা একটি সভ্য দেশে গ্রহণযোগ্য নয়।
দলের প্রার্থীদের ঋণখেলাপির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুর্নীতি ও ঋণখেলাপি দুটি আলাদা বিষয়। বিগত সরকার বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা করা, ব্যবসা-বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি এবং ন্যায্য ব্যাংক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করায় কিছু ব্যবসায়ী ডিফল্ট হয়ে পড়েছিলেন। এটি দুর্নীতি নয় বরং রাজনৈতিক হয়রানির ফল বলে মন্তব্য করেন তিনি।