ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান কূটনৈতিক আলোচনা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনে পাঠানো ইরানের নতুন শান্তি প্রস্তাব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার আলোচনায় অগ্রগতি না হলেও ইরান পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠায়। তবে এই প্রস্তাব নিয়ে ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক হয়নি।
ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া রোডম্যাপে দুই মাসের সংঘাত বিরতির কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় বাণিজ্য পথ ও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ইস্যু সমাধানের পর পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দেওয়া হয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো প্রথমেই ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিষয়টি সমাধান করতে হবে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, নতুন প্রস্তাবে ট্রাম্প সন্তুষ্ট নন। তার মতে, ইরানের পরমাণু কার্যক্রম নিয়েই আগে চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে হবে।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র গণমাধ্যমের মাধ্যমে দরকষাকষিতে অংশ নেবে না এবং তাদের অবস্থান রেড লাইন অনুযায়ী স্পষ্ট।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনায় আনতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে পাকিস্তান। দেশটির সেনাপ্রধান ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।
২০১৫ সালে হওয়া পরমাণু চুক্তির পর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক একাধিকবার উত্তেজনায় জড়িয়েছে। পরে ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে সেই চুক্তি থেকে সরে আসে ওয়াশিংটন যা দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের অবনতি ঘটায়।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরানের অবস্থান আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে। এই রুট দিয়ে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহের একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সংকট শুধু কূটনৈতিক নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে। কংগ্রেসের তদারকি ও সামরিক পদক্ষেপের সীমাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সব মিলিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অগ্রগতি না হয়ে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। ফলে দ্রুত কোনো সমাধান আসবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।