পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেছেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের ঋণ শোধের একমাত্র উপায় হলো তাদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ সংসদের অধিবেশনে ‘জুলাই আন্দোলনে শহীদদের ওপর আনা শোকপ্রস্তাব’-এর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। বক্তব্যের শুরুতে জোনায়েদ সাকি দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে মানুষের ভোটের অধিকার ও গণতান্ত্রিক সংসদীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি স্মরণ করেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষা আজও পূর্ণ হয়নি। গত ১৭ বছর ধরে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে রাষ্ট্রকে একটি ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে সাকি বলেন, বিএনপির নেতৃত্বে ৩৯টি রাজনৈতিক দল রাজপথে লড়াই করেছে। গণসংহতি আন্দোলন ও গণতন্ত্র মঞ্চসহ এই দলগুলো ৩১ দফা সংস্কার রূপরেখা নিয়ে জনগণের মুক্তির জন্য সংগ্রাম চালিয়েছে। এই সময় বহু নেতাকর্মী গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, নারী এবং জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের এক অভূতপূর্ব সংগ্রাম। এই আন্দোলনে আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, রিয়া গোপ, ছাত্রনেতা জুলফিকার স্বাধীনসহ অসংখ্য মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। নিজ নির্বাচনী এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর)-এর শহীদদের স্মরণ করে সাকি বলেন, নয়ন মিয়া, আশিক, তুহিন, ইসমাইল ও ইমরান পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়েছেন। তিনি তাদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। জোনায়েদ সাকি জোর দিয়ে বলেন, এই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য শুধুমাত্র ফ্যাসিবাদের পতন নয় বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। জুলাই হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে বিগত সময়ের সব গুম-খুনের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। খেটে খাওয়া মানুষের ন্যায্য হিস্যা ছাড়া জনগণের সত্যিকারের ঐক্য তৈরি হয় না। তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য জনগণের ঐক্য অপরিহার্য। সাকি বেগম খালেদা জিয়ার ঐক্যের আহ্বান স্মরণ করে বলেন, ৫ আগস্টের পর ৭ আগস্ট জাতির উদ্দেশে বেগম খালেদা জিয়া স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে দেশকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। এটি শুধু বক্তব্য নয় নতুন বাংলাদেশ গঠনের রাজনৈতিক দিশা। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শেষ করে বলেন, পুরো সংসদ জুলাই শহীদদের রক্তের ঋণে আবদ্ধ। শহীদদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার, বিরোধী দল ও সংসদ সদস্যদের একযোগে কাজ করতে হবে। এর মাধ্যমেই শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন এবং আহত যোদ্ধাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।