যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধে তিন দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। এটি শনিবার (৯ মে) থেকে সোমবার (১১ মে) পর্যন্ত চলবে। ট্রাম্প নিজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এই তথ্য দিয়েছেন এবং উভয় পক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাত বন্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা হিসেবে ধরা হচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি, যুদ্ধবিরতির সময় সামরিক কর্মকাণ্ড স্থগিত থাকবে এবং উভয় দেশ থেকে মোট দুই হাজার বন্দি বিনিময় করা হবে।
এটি আসলে যুদ্ধের এক ক্ষণিকের বিশ্রাম, তবে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া ইতিমধ্যেই শনিবার তাদের বিজয় দিবস উপলক্ষে দুই দিনের একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল। ইউক্রেনও এ ধরনের প্রস্তাব দিয়েছিল তবে মস্কো তা গ্রহণ করেনি।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হলেও বাস্তবতা জটিল। পুতিনের রাশিয়ান বাহিনী পূর্ব দনেতস্ক অঞ্চলে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ জমি নিয়ন্ত্রণ করছে। মস্কো দাবি করছে, যেসব অংশ এখনও দখল করতে পারেনি, সেখান থেকে ইউক্রেনীয় সেনাদের সরিয়ে নিতে হবে। কিন্তু কিয়েভ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
এই পরিস্থিতি দেখায় যে, যুদ্ধবিরতি শুধুই কূটনৈতিক সংযম। বাস্তবে সংঘাতের মূল কারণ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক প্রভাব অব্যাহত। জেলেনস্কি বারবার বলছেন, শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড ছাড়ার প্রশ্নই আসে না।
ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি ছিল মূল আকর্ষণ। ক্ষমতায় ফিরলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। তবে প্রায় দেড় বছর পরে ওয়াশিংটন এখনও বড় কোনো সাফল্য অর্জন করতে পারেনি এবং পুতিনের অবস্থান কঠোর।
বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই যুদ্ধবিরতি মূলত রাজনৈতিক সংকেত ও মধ্যস্থতার অংশ। এটি স্থায়ী শান্তি নয় বরং একটি কূটনৈতিক ফ্রেমওয়ার্ক যা পক্ষগুলোর মধ্যে আস্থা বৃদ্ধির সুযোগ দিতে পারে।
যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে একদিকে মনে হচ্ছে, উভয় পক্ষ আলোচনায় আগ্রহী, অন্যদিকে বাস্তবতায় কোনো পক্ষই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড ছাড়ার জন্য প্রস্তুত নয়। তাই, এই তিন দিনের বিরতি সংঘাতের অচলাবস্থা কাটাতে না পারলেও, সমঝোতার দরজা সামান্য উন্মুক্ত করছে।
ট্রাম্পের মধ্যস্থতা এবং যুদ্ধবিরতি মূলত একটি রাজনৈতিক বার্তা: আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন কিয়েভ ও মস্কোর ওপর। দীর্ঘমেয়াদী শান্তির জন্য অবশ্যই ভূখণ্ড, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সমঝোতার সমন্বয় প্রয়োজন।