কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী কেন্দ্রীয় সরকারের উপর তীব্র সমালোচনা করেছেন, অভিযোগ করে বলেছেন যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় পরীক্ষার অনিয়ম এবং প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে। তিনি জানান, নিট পরীক্ষা এখন সাধারণ শিক্ষামূলক পরীক্ষা নয় বরং এটি একটি নিলামরর মতো হয়ে গেছে।
রাহুল গান্ধী উল্লেখ করেছেন যে, গত ১০ বছরে দেশে ৮৯ বার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে এবং ৪৮ বার পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে সরকার লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ তিনি লিখেছেন, পরীক্ষার মাত্র ৪২ ঘণ্টা আগে হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন বিক্রি হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এটি সেই ২২ লাখ শিক্ষার্থীর কঠোর পরিশ্রমের ওপর এক বড় আঘাত।
রাজস্থান পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি) এই ঘটনার তদন্ত করছে। এসওজি-এর অতিরিক্ত মহাপরিচালক বিশাল বনসাল জানিয়েছেন, ৪১০টি প্রশ্নের একটি সম্ভাব্য ‘গেজ পেপার’ তাদের নজরদারিতে রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ওই সেটের প্রায় ১২০টি প্রশ্ন মূল পরীক্ষার রসায়ন অংশের সঙ্গে মিলে গেছে।
তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার এক মাস আগে থেকে এই নথি বাজারে ঘুরছিল কি না এবং এর পেছনে কোনো অপরাধী চক্র সক্রিয় ছিল কি না। রাহুল গান্ধী এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আক্রমণাত্মক মন্তব্য করে বলেন, গরিবদের সন্তানদের স্বপ্ন ধ্বংস করার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার সবচেয়ে বড় হুমকি।
অন্যদিকে, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। তারা জানিয়েছে, ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট পরীক্ষা সম্পূর্ণ নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে এবং স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এনটিএ-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রশ্নপত্র পরিবহনের জন্য জিপিএস ট্র্যাকযুক্ত যানবাহন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত সিসিটিভি ব্যবহৃত হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন এবং ৫জি জ্যামার মোতায়েন করা হয়েছিল।
এনটিএ আরও জানিয়েছে, তারা অনিয়ম সংক্রান্ত তথ্য চার দিন পরে, অর্থাৎ ৭ মে, হাতে পেয়েছে এবং সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে।
রাহুল গান্ধী শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, বর্তমান অন্যায় ব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। আমরা সবাই মিলে এটি পরিবর্তন আনব। যদিও তিনি ১০ বছরে ৮৯ বার প্রশ্ন ফাঁসের পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেছে। তার সঙ্গে যুক্ত কোনো দালিলিক প্রমাণ উল্লেখ করা হয়নি।
রাজস্থান পুলিশের তদন্ত এবং এনটিএ-এর নিরাপত্তা দাবির মধ্যে এখন লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী এবং তাদের পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এই ঘটনাটি দেশজুড়ে রাজনৈতিক এবং সামাজিকভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস