আজ ১০ মে বিশ্ব মা দিবস। মা শব্দটি ছোট হলেও এর চেয়ে মধুর ও গুরুত্বপূর্ণ পৃথিবীতে আর নেই। জন্মের পর মানুষের মুখে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত শব্দগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। মা শুধু সন্তান জন্মদাত্রী নয় তিনি সন্তানের প্রথম শিক্ষক, আশ্রয় এবং নিরাপদ স্থান। সন্তান যখন প্রথম শিখে হাঁটতে, লিখতে বা জীবনের বিভিন্ন পথে এগোতে চেষ্টা করে, মা তখনই তার জন্য সর্বদা পাশে থাকে। সন্তানের প্রতিটি পদক্ষেপে, শৈশব-কৈশোর এবং যৌবনের প্রতিটি পর্যায়ে মায়ের অবদান অপরিসীম।
বিশ্ব মা দিবসের উদ্দেশ্য হলো মায়েদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের প্রকাশ করা। যদিও মায়ের প্রতি ভালোবাসা দেখানোর জন্য কোনো নির্দিষ্ট দিন প্রয়োজন নেই তবুও এ দিনটি সেই অনুভূতিকে বিশেষভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মা দিবস উপলক্ষে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক নানা আয়োজন হয়। কেউ মাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, কেউ উপহার দিচ্ছেন, আবার অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মায়ের সঙ্গে স্মৃতিচারণ করছেন।
বিশ্ব মা দিবসের ইতিহাস দীর্ঘ এবং তা প্রায় ১২০ বছরের পুরনো। প্রথমবার ১৯০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এই দিবস উদযাপন করেন স্কুল শিক্ষিকা আনা জার্ভিস, তার মায়ের স্মৃতিতে। পরবর্তীতে ১৯১৪ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উইড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে সরকারি মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মে মাসের দ্বিতীয় রোববার মা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। আনা জার্ভিস তার মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানাতে এই দিবসের প্রচারণা চালিয়েছিলেন। শুরুতে মার্কিন কংগ্রেস প্রস্তাবটি বাতিল করলেও তিনি থেমে থাকেননি। ধীরে ধীরে সব প্রদেশ প্রস্তাবে রাজি হয়ে দিবসটি সরকারিভাবে উদযাপন করা শুরু হয়।
আজ মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের আধুনিক রূপও লক্ষণীয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্তানরা মা-বিষয়ক ছবি ও অনুভূতি প্রকাশ করছেন। কবি কাদের নেওয়াজ লিখেছেন, ‘মা কথাটি ছোট্ট অতি কিন্তু জেনো ভাই, ইহার চেয়ে নাম যে মধুর ত্রিভুবনে নাই। সত্য ন্যায়ের ধর্ম থাকুক মাথার’ পরে আজি, অন্তরে মা থাকুক মম, ঝরুক স্নেহরাজি’। মায়ের প্রতি এই মমতা, ভালোবাসা ও অকৃত্রিম সম্পর্ক দিনের বিশেষ অংশকে আরও বিশেষ করে তোলে।
এদিন শুধুই আনুষ্ঠানিকতার নয় বরং মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসা প্রকাশের প্রতীক। সন্তানের পক্ষ থেকে মা বিশেষভাবে অনুভব করানোর জন্য দিনটি গুরুত্ব রাখে। তবে বছরের প্রতিটি দিন মায়ের যত্ন, সম্মান ও ভালোবাসা প্রকাশ করা জরুরি। আজকের দিনে পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। প্রত্যাশা, সব মা সুস্থ, নিরাপদ ও সুখী থাকুন, সন্তানদের ভালোবাসায় ঘেরা থাকুন।