ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা শুভেন্দু অধিকারী আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করল বিজেপি।
কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এ শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টার একটু পর রাজ্যপাল আর এন রবির উপস্থিতিতে শপথ নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপর শুভেন্দুর পিঠ চাপড়ে দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তাকে অভিবাদন জানান।
দীর্ঘ সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ছিল বামফ্রন্ট ও পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের নির্বাচনে বিজেপির জয় রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজনীতির পালাবদলে তিনি এখন তারই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এবং শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটি অন্যতম নাটকীয় রাজনৈতিক উত্থান।
অনুষ্ঠান শুরুর কিছুক্ষণ আগে অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছাদ খোলা গাড়িতে মোদির পাশেই ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তারা তিনজন হাত নেড়ে জনতাকে অভিবাদন জানান।
রবীন্দ্র জয়ন্তীর এ দিনে শপথ মঞ্চে উঠে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। বাজানো হয় জাতীয় সংগীত।
আগেই অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অমিত শাহ। শপথ মঞ্চে দেখা গেছে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজনাথ সিং, শিবরাজ সিং চৌহান, জেপি নাড্ডাকে।
এদিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবেও কয়েকজন নেতা শপথ গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল, নিসীথ প্রামাণিক, দিলীপ ঘোষ, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু এবং শঙ্কর ঘোষ।
আরও ছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি, বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল, অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীসহ কেন্দ্র ও রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতারা। কলকাতা আর দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অনেকে শপথ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন। রাজ্যের সবগুলো জেলা থেকে বিজেপির নেতা-কর্মীরাও এসেছেন।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় হয়। মুখ্যমন্ত্রী পদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্থলাভিষিক্ত হলেন তাঁরই এক সময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও বর্তমানে রাজ্য বিজেপির পরিষদীয় দলের নেতা শুভেন্দু।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় শুভেন্দু রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল আর এন রবির সঙ্গে দেখা করেন। সঙ্গে ছিলেন বিজেপির রাজ্য পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা। তখন শুভেন্দু বিজেপির ২০৭ জন নবনির্বাচিত বিধায়কের সইসহ নতুন সরকার গড়ার আবেদনপত্র রাজ্যপালের কাছে জমা দেন।
তার আগে শুক্রবার কলকাতার নিউ টাউনে কনভেনশন সেন্টার হলে বিজেপির জয়ী ২০৭ বিধায়ককে নিয়ে পরিষদীয় বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অমিত শাহ। বৈঠকের পর বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানোর ঘোষণা দেন অমিত শাহ।