মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সেখান থেকে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় ইউরোপের দেশগুলো রাশিয়ার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এর ওপর নির্ভর করছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মার্চ মাসে রাশিয়ার এলএনজি সরবরাহ সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত রাশিয়া থেকে প্রায় ৬.৮ বিলিয়ন ঘনমিটার এলএনজি আমদানি করেছে ইইউ, যা এক বছর আগের ৫.৭ বিলিয়ন ঘনমিটারের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। মার্চ মাসে সরবরাহ দাঁড়ায় ২.৪৬ বিলিয়ন ঘনমিটার যা সর্বকালের সর্বোচ্চ।
মার্চে যুক্তরাষ্ট্র, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো থেকে ইউরোপের এলএনজি সরবরাহ ৮ শতাংশ বেড়ে ৮.৩ বিলিয়ন ঘনমিটার হয়েছে। জানুয়ারি-মার্চ সময়ে এই উৎস থেকে ইউরোপের গ্যাস আমদানি ২৩ শতাংশ বেড়ে ২৩.৯ বিলিয়ন ঘনমিটার হয়েছে। আফ্রিকা থেকে ৪.২ বিলিয়ন ঘনমিটার এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে ২.৫ বিলিয়ন ঘনমিটার এলএনজি এসেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে রাশিয়ার এলএনজি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি আমদানি ২৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকে নিষিদ্ধ হবে এবং পাইপলাইন গ্যাস চুক্তি ১৭ জুন ২০২৬-এর মধ্যে শেষ করতে হবে।
২০২৫ সালে ইইউতে রাশিয়ার এলএনজি সরবরাহ ৫.৬ শতাংশ কমে ২০.৩ বিলিয়ন ঘনমিটার হয়।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউরোপ পুরোপুরি রাশিয়ার গ্যাস ত্যাগ করার পরিকল্পনা করছে। তাই রাশিয়া আগেভাগেই ইউরোপীয় বাজার থেকে সরবরাহ ঘুরিয়ে অন্য আগ্রহী ক্রেতাদের কাছে পাঠাতে পারে।