মার্কিন হুমকি ও ইরানের বন্দর ঘিরে নৌ অবরোধের পরিস্থিতির মধ্যেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ২০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করেছে।
মার্কিন দুই কর্মকর্তার তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। এতে বলা হয়, চলমান উত্তেজনা সত্ত্বেও জাহাজ চলাচল পুরোপুরি থেমে যায়নি।
তবে সব জাহাজ নির্বিঘ্নে পার হতে পারেনি। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অন্তত আটটি জাহাজকে ওই জলপথ অতিক্রম করতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালীতে এমন পরিস্থিতি ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালীতে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেও ধীরে ধীরে নৌ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। তবে সংঘাত-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় জাহাজ চলাচল এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে কম রয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগর থেকে আসা-যাওয়া করা কার্গো জাহাজ, তেলবাহী ট্যাঙ্কার এবং কন্টেইনার জাহাজ সম্প্রতি এই পথ ব্যবহার করেছে। তবুও নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় জাহাজের সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমই রয়ে গেছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে কিছু জাহাজ তাদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে চলাচল করছে বলে জানা গেছে। সমুদ্র মাইন ও হামলার আশঙ্কায় আগে এই রুটে বাণিজ্য কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছিল।
পরিস্থিতি সামাল দিতে মার্কিন বাহিনী প্রণালী থেকে সমুদ্র মাইন অপসারণে অভিযান শুরু করেছে। সপ্তাহের শুরুতে দুটি যুদ্ধজাহাজ এই কার্যক্রমে অংশ নেয়। ওয়াশিংটনের মতে, এটি ‘নৌচলাচলের স্বাধীনতা’ নিশ্চিত করা এবং বাণিজ্যিক জাহাজের আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এখানে যেকোনো বিঘ্ন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে সম্প্রতি ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ কার্যকর করা হয়েছে। তবে এই অবরোধ শুধুমাত্র ইরানের বন্দরে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের বাইরের গন্তব্যে যাওয়া জাহাজগুলো এখনো হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে পারছে এবং তাদের নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, মার্কিন নির্দেশনা মেনে কয়েকটি জাহাজ ফিরে গেলেও সরাসরি বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি।
সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, অবরোধ শুরুর পরও কিছু জাহাজ প্রণালী অতিক্রম করেছে, যার মধ্যে বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজও রয়েছে।
উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের কূটনৈতিক উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীলতার দিকে গেলেও পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে এখনো সময় লাগতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।