ঢাকার ধামরাইয়ে জামিরাবাড়ী এলাকায় রূপা আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর প্রায় ৬ মাস পর আদালতের নির্দেশে কবর থেকে তার লাশ উত্তোলন করা হয়েছে।
রবিবার (২৪মে) দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে উপজেলার বাইশাকান্দা ইউনিয়নের জামিরাবাড়ি গ্রামের কবরস্থান থেকে লাশটি তুলে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিহত রূপা আক্তার উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের আমরাইল রামভদ্রপাড়া গ্রামের মোঃ জাকির হোসেনের স্ত্রী।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে জাকির হোসেনের সঙ্গে রূপার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই জাকিরের চাচাতো ভাই এবং পেশায় পুলিশ সদস্য শান্ত হাসানের সঙ্গে রূপার পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এনিয়ে পরিবার ও সমাজে একাধিকবার সালিশ-বৈঠকও হয়। পরবর্তীতে নিজের সংসার বাঁচাতে জাকির হোসেন পৈতৃক বাড়ি ছেড়ে বাইশাকান্দা ইউনিয়নের বাঘাইর গ্রামের মৃত নান্নু মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতে শুরু করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, সেখানেও দেবর শান্ত হাসানের যাতায়াত অব্যাহত ছিল।
এরই জের ধরে গত বছরের ২৮নভেম্বর রাতে ওই ভাড়া বাসা থেকেই রূপা আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার আগের রাতেও শান্ত হাসানকে ওই বাসায় ঢুকতে দেখে প্রতিবেশীরা বাঁধা দেন। এরপর শান্ত সেখান থেকে চলে যায়। পরদিন রাতে রূপাকে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক রুপাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি তখন আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হলেও নিহতের চার বছরের শিশুকন্যা জিনিয়ার একটি বক্তব্য এই রহস্যে নতুন মাত্রা যোগ করে। শিশু জিনিয়ার দাবি, শান্ত হাসানই তার মাকে গলা টিপে এবং রশি দিয়ে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে।
এদিকে, ঘটনার পর নিহতের স্বামী জাকির হোসেন ধামরাই থানায় হত্যা মামলা করতে গেলে পুলিশ তা ‘সাধারণ ডায়েরি’ (জিডি) হিসেবে গ্রহণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে সুষ্ঠু বিচারের আশায় তিনি ধামরাই চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পিটিশন মামলা দায়ের করেন। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্তের স্বার্থে মরদেহ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।
মরদেহ উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন ধামরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রিদওয়ান আহমদ রাফি, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর পুলিশ পরিদর্শক মোঃ খালেদ।
ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আকিব হোসেন সাংবাদিকদের জানান, “আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা রূপা আক্তারের মরদেহ উত্তোলন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। বর্তমানে ঘটনাটি পিবিআই তদন্ত করছে।”
ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান জানান, আদালতের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই মরদেহ উত্তোলন ও ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পিবিআই-এর তদন্ত প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য শান্ত হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি বিষয়টি জানেন না বলে ফোন কেটে দেন।