নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়াকে নিজের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, বই বিতরণে কোনো ধরনের বিলম্ব যেন না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে কাগজকল ও ছাপাখানা মালিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতে দায়িত্ব পালনকালে একটি প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে দেশের শত শত ছাপাখানাকে বই ছাপার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে স্থানীয় মুদ্রণশিল্প টিকে থাকার সুযোগ পেয়েছে এবং কয়েক বছর সফলভাবেই সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল।
তিনি জানান, একসময় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বই ছাপানোর ব্যবস্থা ছিল। তবে দেশের ছাপাখানা ও বাঁধাই শিল্পকে সচল রাখতে সে নীতিতে পরিবর্তন আনা হয় এবং প্রায় ৬৫০টি ছাপাখানাকে বই মুদ্রণের কাজে যুক্ত করা হয়েছিল।
কাগজকল ও ছাপাখানা মালিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য একটাই—নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, সরকার চায় কাগজের দাম ও উৎপাদন ব্যয় নিয়ে যৌক্তিক সমাধান হোক। কেউ যেন অযৌক্তিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, আবার অতিরিক্ত মুনাফার বিষয়ও যেন না থাকে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সময়মতো বই সরবরাহ নিশ্চিত করা।
এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, কাগজকল ও ছাপাখানা—উভয় খাতেরই সাফল্য এবং সীমাবদ্ধতার ইতিহাস রয়েছে। তবে দেশের কাগজকলগুলোর সক্ষমতা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ আছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।