সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে চালু হওয়া ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচি নানা সীমাবদ্ধতা ও অনিয়মের মুখে পড়েছে। টেন্ডার জট এবং আইনি জটিলতার কারণে অনেক এলাকায় খাবারের সরবরাহ বিলম্বিত হচ্ছে, আবার কখনও নিম্নমানের খাবার বিতরণ হচ্ছে। তবুও সরকার জুন-জুলাই মাস থেকে এই কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে দেশের ১৫০টি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ডিম, দুধ, বিস্কুট, বনরুটি এবং ফলসহ পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে। তবে বিভিন্ন স্থানে পচা বা কাঁচা ডিম, মেয়াদোত্তীর্ণ রুটি এবং নিম্নমানের খাবারের অভিযোগ উঠেছে। উত্তরাঞ্চলের এক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জানান, একদিন তাদের স্কুলে আসা বনরুটির প্যাকেটে ভবিষ্যতের উৎপাদনের তারিখ লেখা ছিল। প্যাকেটের ছবিও তিনি তুলে রেখেছেন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিশুদের মধ্যে খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মোহাম্মদ শামসুজ্জামান জানান, স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে কোনোভাবেই মানের অবনতি অনুমোদন করা হবে না। প্রধান শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের সম্পৃক্ততা বাড়ানো হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে খাদ্যের মান পরীক্ষা করা হবে। সপ্তাহের পাঁচটি কর্মদিবসে শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয় ফর্টিফাইড বিস্কুট, বনরুটি, সেদ্ধ ডিম, কলা বা মৌসুমি ফল, এবং ইউএইচটি দুধ। পরিকল্পিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় মোট এনার্জির ২৫.৯%, প্রোটিনের ১৬.৪%, ফ্যাটের ২১.৭% এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ৩২.২% পূরণ নিশ্চিত করা সম্ভব। কর্মসূচির খাদ্য সরবরাহ তিনটি অংশে ভাগ করে টেন্ডারের মাধ্যমে পরিচালিত হয় ইউএইচটি দুধ, ফর্টিফাইড বিস্কুট এবং ‘ফুড বাস্কেট’ (বনরুটি, ডিম, ফল)। তবে যোগ্য সরবরাহকারী না পাওয়া এবং আইনি জটিলতার কারণে কিছু এলাকায় সরবরাহ বাধাপ্রাপ্ত। ফর্টিফাইড বিস্কুট সরবরাহ নিয়ে সাতটি বিভাগে উচ্চ আদালতে মামলা চলছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আদালতের সিদ্ধান্তের পর সরবরাহ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানান, জুন-জুলাই মাস থেকে ধাপে ধাপে সব উপজেলাকে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। নতুন ধাপে সরবরাহের পাশাপাশি তদারকি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে। পুরো দেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে ছয় মাস থেকে এক বছর সময় লাগতে পারে। তিনি বলেন, স্কুল ফিডিং শুধু একটি খাবার কর্মসূচি নয় এটি শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং তাদের বিদ্যালয়ে আসতে উৎসাহিত করার একটি বড় উদ্যোগ। আমরা চাই দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থী এর সুফল পাক।