সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর নামে দেশে ও বিদেশে মোট ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ আদালতের আদেশে অবরুদ্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। একই সঙ্গে দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারে কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বিএফআইইউর বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এ তথ্য তুলে ধরেন সংস্থাটির প্রধান ইখতিয়ারউদ্দিন মো. মামুন।
তিনি জানান, অবরুদ্ধ করা সম্পদের মধ্যে দেশে প্রায় ৫৭ হাজার কোটি টাকা এবং বিদেশে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। এসব সম্পদ আদালতের মাধ্যমে জব্দ করা হয়েছে।
বিএফআইইউ প্রধান বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট দেশ ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ সম্পদ উদ্ধারের বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির খবর দেওয়া সম্ভব হবে।
ব্যাংক হিসাব জব্দের বিষয়ে ইখতিয়ারউদ্দিন মো. মামুন বলেন, বিএফআইইউ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করে না। সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন বা অর্থপাচারের তথ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব স্থগিত বা ফ্রিজ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, আমরা দল-মতের দিকে তাকাই না। সন্দেহজনক হলেই ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের কারও বিরুদ্ধেও যদি এমন অভিযোগ পাওয়া যায়, সেটিও তদন্তের আওতায় আসবে।
বিএফআইইউ সূত্রে জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের পাশাপাশি ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, কর ফাঁকি এবং অর্থপাচারের অভিযোগ তদন্তে যৌথ তদন্ত দল কাজ করছে।
তদন্তের আওতায় থাকা শিল্পগোষ্ঠীগুলো হলো এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ, সামিট গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, ডা. ইকবালের প্রিমিয়ার গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ এবং সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদের আরামিট গ্রুপ।
বিএফআইইউ জানিয়েছে, তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।