মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও জ্বালানি সরবরাহ সংকটের প্রভাবে বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যারেলপ্রতি দাম ১০৮ ডলার ছাড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থা এখনো কাটেনি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন জ্বালানি সরবরাহকে প্রভাবিত করছে যা বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
সোমবারের বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.৭৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৮.২৩ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ২.০৯ শতাংশ বেড়ে ৯৬.৩৭ ডলারে দাঁড়ায়।
কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নতুন প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি, যুদ্ধবিরতি এবং আঞ্চলিক নৌপথ ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান এখনো ভিন্ন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের শর্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।
বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় তেল সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই রুট দিয়েই বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি পরিবাহিত হয়।
তেলের দাম বাড়লেও বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে সামান্য ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীরা বড় কোম্পানির আয় প্রতিবেদন ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
ওয়াল স্ট্রিটে সূচকগুলো মিশ্রভাবে লেনদেন করেছে ডাও জোন্স সামান্য কমলেও এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও নাসডাক কিছুটা বেড়েছে।
মুদ্রাবাজারে ডলার সূচক সামান্য কমেছে, ইউরো ও ইয়েনের বিপরীতে ডলারের মান প্রায় স্থিতিশীল ছিল। অন্যদিকে স্বর্ণের দাম কিছুটা হ্রাস পেয়েছে কারণ বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ বাজারে অপেক্ষার কৌশল নিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা অব্যাহত থাকলে তেলের বাজার আরও অস্থির থাকতে পারে।